কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২২
প্রশ্ন সলিউশন
কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২২
প্রশ্ন সলিউশন পর্ব- ১
১. সালসাবীল কি?
ক) কর্পূর মিশ্রিত পানি
খ) পবিত্র শরাব
গ) একটি ঝর্ণার নাম
ঘ) আদা-মিশ্রিত পানি
উত্তরঃ গ) একটি ঝর্ণার নাম। সূরা দাহর আয়াত- ১৮ জান্নাতের এমন এক প্রস্রবণের, যার নাম হবে সালসাবীল।
পবিত্র শরাব– শারাবান তাহুরা– সূরা দাহর আয়াত- ২১
আদা-মিশ্রিত পানি– যানজাবিল । সূরা দাহর আয়াত- ১৭
কর্পূর মিশ্রিত পানি – সূরা দাহর আয়াত- ৫
২. কুরআনের আয়াত তেলাওয়াতের সময় কান্নার অবস্থা সৃষ্টি হওয়া কি?
ক) মুমিনদের জন্য ওয়াজিব
খ) নবীদের সুন্নাত
গ) তাবেঈনদের আমল
ঘ) সাহাবীদের বিশেষ আমল
উত্তরঃ খ) নবীদের সুন্নাত
এরাই তারা, নবীদের মধ্যে আল্লাহ যাদেরকে অনুগ্রহ করেছেন, আদমের বংশ থেকে এবং যাদেরকে আমরা নূহের সাথে নৌকায় আরোহণ করিয়েছিলাম। আর ইবরাহীম ও ইসরাঈলের বংশোদ্ভূত, আর যাদেরকে আমরা হেদায়াত দিয়েছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম; তাদের কাছে দয়াময়ের আয়াত তিলাওয়াত করা হলে তারা লুটিয়ে পড়ত সিজদায় এবং কান্নায়। (সূরা মারইয়াম ৫৮)
৩. কোন কিছু জানার তিনটি স্তর রয়েছে- একটি হলো- ইলমুল ইয়াক্বীন, আরেকটি হলো আইনাল ইয়াক্বীন তৃতীয়টি কি?
ক) হাক্কাল ইয়াক্বীন
খ) খাইরাল ইয়াক্বীন
গ) ইয়াক্বীন ফিল্লাহ
ঘ) আতানাল ইয়াক্বীন
উত্তরঃ ক) হাক্কাল ইয়াক্বীন
★ ১) ইলমুল ইয়াকিন (কোন বিষয় জেনে নিশ্চিত হওয়া)।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ
“কখনই নয়; যদি তোমরা নিশ্চিত জানতে।” [সূরা তাকাসুর: ৫]
★ ২) আইনুল ইয়াকিন (স্বচক্ষে দেখে নিশ্চিত হওয়া):
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ
আবার বলি, তোমরা অবশ্যই এটি দেখবে নিশ্চিত দৃষ্টিতে।” [সূরা তাকাসুর: ৭]
★ ৩) হাক্কুল ইয়াকিন (বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যমে নিশ্চিত হওয়া):
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ حَقُّ الْيَقِينِ
“নিঃসন্দেহ এটি অবশ্য সুনিশ্চিত সত্য।” [সূরা ওয়াকিয়া: ৯৫]
৪. দুই বাগানের মালিকের মধ্যে কাফের মালিক কি অস্বীকার করেছিল?
ক) কিয়ামতকে
খ) তাকদীরকে
গ) রাসূলকে
ঘ) আল্লাহ্কে
উত্তরঃ ক) কিয়ামতকে
আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রব-এর কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবে আমি তো নিশ্চয় এর চেয়ে উৎকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল পাব। (সূরা কাহাফ আয়াত ৩৬)
৫. তুমি তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না…’ এই আয়াতাংশ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে?
ক) দান-সাদকা কম করা
খ) রিজিকের জন্য প্রচেষ্টা না করা
গ) ধন-সম্পদ জমানো
ঘ) কৃপনতা করা
উত্তরঃ ঘ) কৃপনতা করা
আর তুমি তোমার হাত গলায় বেঁধে রেখো না এবং তা সম্পূর্ণরূপে মেলেও দিও না, তাহলে তুমি তিরস্কৃত ও আফসোসকৃত হয়ে বসে পড়বে। (সূরা বনী ইসরাইল ২৯)
৬. মহান আল্লাহ্ দুনিয়ার জীবনকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন?
ক) বীজ থেকে উৎপন্ন শস্য
খ) গাছের ফুল ও ফুল
গ) বৃষ্টি পানি থেকে সৃষ্ট হওয়া বন্যা
ঘ) আকাশ থেকে নাযিল হওয়া পানি
উত্তরঃ ঘ) আকাশ থেকে নাযিল হওয়া পানি
আর আপনি তাদের কাছে পেশ করুন উপমা দুনিয়ার জীবনের: এটা পানির ন্যায় যা আমরা বর্ষণ করি আকাশ থেকে, যা দ্বারা ভূমিজ উদ্ভিদ ঘন সন্নিবিষ্ট হয়ে উদগত হয়, তারপর তা বিশুষ্ক হয়ে এমন চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় যে, বাতাস তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়। আর আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান। (সূরা কাহাফ আয়াত ৪৫)
৭. তাগুতকে অস্বীকার করার অর্থ কি?
ক) তাগুত বলতে কিছু নেই বিশ্বাস করা
খ) তাগুত শয়তানের কাজ মনে করা
গ) আল্লাহ্র ইবাদত ছাড়া অন্য কারো ইবাদত সাব্যস্ত না করা
ঘ) মুখ দিয়ে তাগুন না করার ঘোষণা দেওয়া
উত্তরঃ গ) আল্লাহ্র ইবাদত ছাড়া অন্য কারো ইবাদত সাব্যস্ত না করা
দ্বীন গ্রহণের ব্যাপারে কেন জোর-জবরদস্তি নেই; সত্য পথ সুস্পষ্ট হয়েছে ভ্রান্ত পথ থেকে। অতএব, যে তাগুতকে অস্বীকার করবেও আল্লাহর উপর ঈমান আনবে সে এমন এক দৃঢ়তর রজ্জু ধারন করল যা কখনো ভাঙ্গবে না। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী। (সূরা বাকারাহ আয়াত ২৫৬)
তাগূতকে অস্বীকার করার অর্থ এই নয় যে, তাগূত নেই বলে বিশ্বাস পোষণ করা। বরং তাগুতকে অস্বীকার করা বলতে বুঝায় আল্লাহর ইবাদাত ছাড়া অন্য কারো জন্য ইবাদাত সাব্যস্ত না করা এবং এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহর ইবাদাত ছাড়া সকল প্রকার ইবাদাতই বাতিল ও অগ্রহণযোগ্য। আর যারা আল্লাহর বৈশিষ্ট্যে কোন কিছু তাদের জন্য দাবী করে থাকে তাদেরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এ বিশ্বাস করা যে তাদের এ ধরণের কোন ক্ষমতা নেই।
‘আর যারা ত্বাগূতের উপাসনা পরিহার করে এবং আল্লাহ অভিমুখী হয় তাদের জন্য আছে সুসংবাদ। অতএব আমার বান্দাদেরকে সুসংবাদ দাও’ (যুমার ৩৯/১৭)।
৮. ক্বদরের রাত্রের বিশেষ দোয়া কোনটি?
ক) আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল জান্নাহ
খ) আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি
গ) আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুকা
ঘ) আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী
উত্তরঃ ঘ) আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি কদরের রাত পেয়ে যাই তবে কী দোয়া পড়বো? তিনি বলেনঃ তুমি বলবে (রাঃ) ‘‘হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও’’। তিরমিযী ৩৫১৩, মিশকাত ২০৯১। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
প্রশ্নে উল্লেখিত অন্যান্য দোয়া সম্পর্কেও আমরা জেনে নেই–
সালামের আগে শেষ তাশাহহুদের পরের দো‘আ
للَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ». (আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল জান্নাতা ওয়া আ‘উযু বিকা মিনান্নার)। ৬১-(৭) “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত চাই এবং জাহান্নাম থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”।[আবূ দাউদ, নং ৭৯২; ইবন মাজাহ্ নং ৯১০। আরও দেখুন, সহীহ ইবন মাজাহ, ২/৩২৮।]
দুশ্চিন্তা ও ঋণ থেকে মুক্তির জন্য সকাল-সন্ধ্যায় এ দোয়া পড়তে হয়-
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ ‘‘আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হুযনি ওয়াল ‘আজযি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি, ওয়া যলা‘ইদ্ দায়নি ওয়া গলাবাতির্ রিজা-ল’’ (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে দুশ্চিন্তা, শোক-তাপ, অক্ষমতা-অলসতা, কাপুরুষতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও মানুষের জোর-জবরদস্তি হতে আশ্রয় চাই)। ( সহীহ বুখারী : ৬৩৬৯, মুসলিম ২৭০৬, নাসায়ী ৫৪৪৯, তিরমিযী ৩৪৮৪)
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া করতেন, আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা অত্তুক্বা, অলআফা-ফা অলগিনা। অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সৎপথ, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা ও অভাবশূন্যতা প্রার্থনা করছি। [মুসলিম ২৭২১, তিরমিযি ৩৪৮৯, ইবন মাজাহ ৩৮৩২, আহমদ ৩৬৮৪, ৩৮৯৪, ৩৯৪০]
৯. কারো ঘরে প্রবেশের নীতিমালা কি?
ক) সালাম দেওয়া ও অনুমতি দেওয়া
খ) পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা থাকা ও সালাম দেওয়া
গ) সালাম দেওয়া ও নিজের পরিচয় দেওয়া
ঘ) সালাম দেওয়া এবং প্রবেশ করা
উত্তরঃ ক) সালাম দেওয়া ও অনুমতি দেওয়া
হে মুমিনগণ, তোমরা নিজদের গৃহ ছাড়া অন্য কারও গৃহে প্রবেশ করো না, যতক্ষণ না তোমরা অনুমতি নেবে এবং গৃহবাসীদেরকে সালাম দেবে। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যাতে তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা নূর আয়াত ২৭)
১০. নিচের কোন অপরাধের শাস্তি দুনিয়া ও আখেরাতে রয়েছে?
ক) অন্যকে মুসলিম ভাইকে ঠাট্টা করা
খ) মুমিন নারীকে অপবাদ দেওয়া
গ) মুমিন নারীকে নিন্দা করা
ঘ) অন্য মুসলমান ভাইয়ের উপর গোয়েন্দাগিরি করা
উত্তরঃ খ) মুমিন নারীকে অপবাদ দেওয়া
যারা সচ্চরিত্রা, সরলমনা-নির্মলচিত্ত, ঈমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করে, তারা তো দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। (সূরা নূর আয়াত ২৩)
অন্যকে মুসলিম ভাইকে ঠাট্টা করা– গোনাহের কাজ– তাওবা করতে হবে– সূরা হুজরাত আয়াত ১১
‘পেছনে ও সামনে প্রত্যেক পরনিন্দাকারীর জন্য দুর্ভোগ-ধ্বংস।’ (সুরা হুমাজাহ, আয়াত : ০১)
মুমিনগণ, তোমরা অনেক ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা গোনাহ। এবং গোপনীয় বিষয় সন্ধান করো না। তোমাদের কেউ যেন কারও পশ্চাতে নিন্দা না করে। তোমাদের কেউ কি তারা মৃত ভ্রাতার মাংস ভক্ষণ করা পছন্দ করবে? বস্তুতঃ তোমরা তো একে ঘৃণাই কর। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। (সূরা হুজরাত ১২)
১১. যুলকারনাইন প্রাচীর নির্মাণ করার সময় গিরিপথ বন্ধ করার জন্য কি ব্যবহার করেছিলেন?
ক) গলিত তামা
খ) সীসা
গ) টুকরো করা পাথর
ঘ) এঁটেল মাটি
উত্তরঃ ক) গলিত তামা
তোমরা আমার কাছে লোহার পাতসমূহ নিয়ে আস, অবশেষে মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে যখন লৌহস্তুপ দুই পর্বতের সমান হল তখন সে বলল, তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক৷ অতঃপর যখন সেটা আগুনে পরিণত হল, তখন সে বলল, তোমরা আমার কাছে গলিত তামা নিয়ে আস, আমি তা ঢেলে দেই এর উপর। (সূরা কাহাফ ৯৬)
১২. সূরা আছরের আলোকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচার জন্য কয়টি গুণাবলী অর্জন করার প্রয়োজন?
ক) ২টি
খ) ৩টি
গ) ৪টি
ঘ) ৫টি
উত্তরঃ গ) ৪টি
সময়ের কসম, নিশ্চয় সকল মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততায় নিপতিত। তবে তারা ছাড়া যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, পরস্পরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে এবং পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। (সূরা আছর)
এ সূরার মাধ্যমে আমরা জানতে পারলাম যে, চারটি বিষয় অর্জন করা আমাদের জন্য জরুরি ক্ষতিগ্রস্ত থেকে বাঁচার জন্য: ১. ঈমান, ২. আমল, ৩. সত্যের উপদেশ, ৪. ধৈর্যধারণের উপদেশ,
যার মধ্যে প্রথম ২টা হলো ব্যক্তিগত মানউন্নোয়ন সম্পর্কিত। শেষের ২টা সামাজিক ভাবে করণীয়।
১৩. রাব্বিজআলনি মুকিমাস সালাতি ওয়া মিন জুররিয়াতি, রাব্বানা ওয়া তাকাব্বাল দুআ। অর্থ : হে আমার প্রভু, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও (নামাজ কায়েমকারী বানান), হে আমাদের প্রভু, আর আমার দোয়া কবুল করুন। –এটা কোন নবীর দোয়া?
ক) ইব্রাহীম আঃ
খ) মুহাম্মাদ সাঃ
গ) আদম আঃ
ঘ) নূহ আঃ
উত্তরঃ ক) ইব্রাহীম আঃ
সূরা ইব্রাহীমের ৩৫ নং আয়াতে উল্লেখ আছে – আর স্মরণ করুন, যখন ইবরাহীম বলেছিলেন,……. এর পরের আয়াতগুলো ইব্রাহীম আঃ এর দোয়াগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত দোয়াটি ৪০ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৩. পৃথিবীতে দম্ভভরে পদচারণা করো না। নিশ্চয় তুমি তো ভূ পৃষ্ঠকে কখনই বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনই ____ সমান হতে পারবে না। আয়াতাংশের কিসের সমান বলা হয়েছে?
ক) গাছ
খ) পর্বত
গ) আকাশ
ঘ) নিজের দ্বিগুন
উত্তরঃ খ) পর্বত
ভূ-পৃষ্ঠে দম্ভভরে বিচরণ করো না, তুমি তো কখনোই পদভারে ভূ-পৃষ্ঠ বিদীর্ণ করতে পারবে না এবং উচ্চতায় তুমি কখনোই পর্বত সমান হতে পারবে না। (সূরা বনী ইসরাঈল ৩৭)
১৫. আরবরা তিনটি গুনাহের সাথে বেশী জড়িত ছিল। একটি হলো শিরক, আরেকটি হলো অন্যায়ভাবে হত্যা করা তৃতীয়টি কি?
ক) যুদ্ধ
খ) যিনা
গ) গীবত
ঘ) সুদ
উত্তরঃ খ) যিনা
এবং তারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহকে ডাকে না। আর আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না। আর তারা ব্যভিচার করে না; যে এগুলো করে, সে শাস্তি ভোগ করবে। (সূরা ফুরকান ৬৮)
১৬. সূরা দাহরে তিন শ্রেণীর মানুষকে খাদ্য দান করার কথা উল্লেখ আছে। আভাবগ্রস্থ, ইয়াতীম আরেক শ্রেনী কারা?
ক) মিসকিন
খ) নও-মুসলিম
গ) বন্দী
ঘ) গৃহহীন
উত্তরঃ গ) বন্দী
আহার্যের প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও তারা অভাবগ্রস্ত, ইয়াতীম ও বন্দীকে অন্নদান করে। (সূরা দাহর ৮ )
১৭. খিযির আঃ একটি প্রাচীর মেরামত করেছিলেন। এই প্রচীরের নিচে গুপ্তধন ছিল। এইগুলোর মালিক কে?
ক) দুই বৃদ্ধ
খ) বাগানের দুই মালিক
গ) নৌকার মাঝি
ঘ) দুই এতিম কিশোর
উত্তরঃ ঘ) দুই এতিম কিশোর
অতঃপর উভয়ে চলতে লাগল; চলতে চলতে তারা এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌঁছে তাদের কাছে খাদ্য চাইল; কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করল। অতঃপর সেখানে তারা এক প্রাচীর দেখতে পেল, যা পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সে সেটাকে সুদৃঢ় করে দিল। মূসা বললেন, আপনি তো ইচ্ছে করলে এর জন্য পারিশ্রমিক গ্ৰহণ করতে পারতেন। (সূরা কাহাফ ৭৭)
আর ঐ প্রাচীরটি— সেটা ছিল নগরবাসী দুই ইয়াতিম কিশোরের এবং এর নীচে আছে তাদের গুপ্তধন আর তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। কাজেই আপনার রব তাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছে করলেন যে, তারা বয়ঃপ্ৰাপ্ত হোক এবং তারা তাদের ধনভাণ্ডার উদ্ধার করুক। আর আমি নিজ থেকে কিছু করিনি; আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য ধারণে অপারগ হয়েছিলেন, এটাই তার ব্যাখ্যা। (সূরা কাহাফ ৮১)
১৮. লাইলাহ (ليلة) শব্দের অর্থ কি?
ক) সৌন্দর্য্য
খ) রাত্রি
গ) সম্মান
ঘ) মর্যাদাপূর্ণ
উত্তরঃ খ) রাত্রি
শব্দটি উল্লেখ আছে সূরা ক্বদর এ
১৯. দুই বাগানের মালিকের ঘটনা কোন সূরায় উল্লেখ আছে?
ক) সূরা কাহাফ
খ) সূরা মারইয়াম
গ) সূরা নূর
ঘ) সূরা বনী ঈসরাঈল
উত্তরঃ ক) সূরা কাহাফ
সূরা কাহাফ (৩২-৪৯)
২০. মুসা আঃ এর সফর সঙ্গী খাদেম কে ছিল?
ক) হযরত খিযির
খ) বালিয়া ইবনে মালিকান
গ) ইউশা ইবনে নূন
ঘ) নূন ইবনে ইফরাবিন
উত্তরঃ গ) ইউশা ইবনে নূন
আর স্মরণ করুন, যখন মূসা তার সঙ্গী যুবককে বলেছিলেন, দুঃসাগরের মিলনস্থলে না পৌছে আমি থামব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। (সূরা কাহাফ ৬০) এই আয়াতের তাফসীর ইবনে কাসীর, তাফসীরে মাআরিফুল কুরআনেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সহীহ বুখারীতে (ইসলামিক ফাউন্ডেশন নাম্বারঃ ১২৪) মুসা আঃ এর ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে এই নাম উল্লেখ করা হয়েছে–
৪১. আসহাবে কাহাফের লোকদের সাথে কোন প্রাণি ছিল?
ক) কুকুর
খ) ছাগল
গ) বিড়াল
ঘ) হুদহুদ পাখি
উত্তরঃ ক) কুকুর
আর আপনি মনে করতেন তারা জেগে আছে, অথচ তারা ছিল ঘুমন্ত। আর আমরা তাদেরকে পাশ ফিরাতাম ডান দিকে ও বাম দিকে এবং তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহার দরজায় প্রসারিত করে। যদি আপনি তাদের প্রতি তাকিয়ে দেখতেন, তবে অবশ্যই আপনি পিছন ফিরে পালিয়ে যেতেন। আর অবশ্যই আপনি তাদের ভয়ে আতংকগ্ৰস্ত হয়ে পড়তেন; (সূরা কাহাফ ১৮)
৪২কোন সূরা প্রতি আয়াতে আল্লাহ্ শব্দ রয়েছে?
ক) সূরা ইখলাস
খ) সূরা মুযাম্মিল
গ) সুরা রাহমান
ঘ) সূরা মুজাদালা
উত্তরঃ ঘ) সূরা মুজাদালা
৪৩. মানুষের জীবনের চারটি স্তরের মধ্যে দারুল ক্বারার বলতে কোন জীবনকে বুঝায়?
ক) মাতৃগর্ভের জীবন
খ) কবরের জীবন
গ) দুনিয়ার জীবন
ঘ) আখিরাতের জীবন
উত্তরঃ ঘ) আখিরাতের জীবন
৪৪. গুনাহসমূহকে নেক দ্বারা পরিবর্তনের শর্ত কি?
ক) তাওবা – সৎকাজ
খ) তাওবা- দোয়া – ইস্তেগফার
গ) ঈমান- যিকির – আমল
ঘ) তাওবা – ঈমান – সৎকাজ
উত্তরঃঘ) তাওবা – ঈমান – সৎকাজ
তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকাজ করে, ফলে আল্লাহ্ তাদের গুণাহসমূহ নেক দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা ফুরকান ৭০)
৪৫. আয়েশা রা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ‘ইফকের ঘটনা’। ইফক শব্দের অর্থ কি?
ক) জঘন্য ঘৃণিত কাজ
খ) পরনিন্দা করা
গ) জঘন্য মিথ্যা অপবাদ
ঘ) চারিত্র হানি
উত্তরঃ গ) জঘন্য মিথ্যা অপবাদ
৪৬. রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা এই দোয়াটি কোন সূরায় উল্লেখ আছে?
ক) সূরা কাহাফ
খ) সূরা ইব্রাহীম
গ) সূরা ইসরা
ঘ) সূরা বাকারাহ
উত্তরঃ
وَٱخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ ٱلذُّلِّ مِنَ ٱلرَّحْمَةِ وَقُل رَّبِّ ٱرْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِى صَغِيرًا –
আর মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত কর এবং বল, ‘হে আমার রব! তাদের প্ৰতি দয়া করুন যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন’। (সূরা ইসরা ২৪)
৪৭. মানুষকে পরীক্ষা করার জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোন কোন নিয়ামত দিয়েছেন?
ক) জিহ্বা ও নাক
খ) হাত ও পা
গ) হৃদয় ও বুদ্ধি
ঘ) চোখ ও কান
উত্তরঃ ঘ) চোখ ও কান
আমরা তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্রবিন্দু থেকে, আমরা তাকে পরীক্ষা করব; তাই আমরা তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন। (সূরা দাহর ২)
৪৮. সূরা আদিয়াতে মানুষের তিনটি মানবিক দূর্বলতার কথা বলা হয়েছে। নিচের কোনটি এই তিনটির মধ্যে নয়?
ক) মানুষ সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে;
খ) মানুষ তার পালনকর্তার প্রতি অকৃতজ্ঞ
গ) মানুষ জবাবদিহিতার বিষয়ে উদাসহীন
ঘ) মানুষ ধন-সম্পদের ভালবাসায় মত্ত
উত্তরঃ ক) মানুষ সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে;
নিশ্চয় মানুষ তার রবের প্রতি বড়ই অকৃতজ্ঞ
আর নিশ্চয় সে এ বিষয়ে সাক্ষী
আর নিশ্চয় সে ধন-সম্পদের আসক্তিতে প্রবল
তবে কি সে জানে না যখন কবরে যা আছে তা উত্থিত হবে
আর অন্তরে যা আছে তা প্ৰকাশ করা হবে?
নিশ্চয় তাদের রব সেদিন তাদের ব্যাপারে সবিশেষ অবহিত
(সূরা আদিয়াত ৬-১১)
দুর্ভোগ প্রত্যেকের, যে পিছনে ও সামনে লোকের নিন্দা করে, যে সম্পদ জমায় ও তা বার বার গণনা করে; (সূরা হুমাযাহ ১-২)
৪৯ ‘মুমিনের গুণাবলী’ বলতে গিয়ে কোন সূরায় মুমিনদের ইবাদুর রহমান বলে সম্বোধন করা হয়েছে?
ক) সূরা বনী ইসরাঈল
খ) সূরা মুমিনুন
গ) সুরা ফুরকান
ঘ) সূরা কাহাফ
উত্তরঃগ) সুরা ফুরকান
وَعِبَادُ ٱلرَّحْمَـٰنِ ٱلَّذِينَ يَمْشُونَ عَلَى ٱلْأَرْضِ هَوْنًا وَإِذَا خَاطَبَهُمُ ٱلْجَـٰهِلُونَ قَالُوا۟ سَلَـٰمًا –
আর রাহমান-এর বান্দা তারাই, যারা যমীনে অত্যন্ত বিনম্রভাবে চলাফেরা করে এবং যখন জাহেল ব্যক্তিরা তাদেরকে (অশালীন ভাষায়) সম্বোধন করে, তখন তারা বলে, সালাম; (সূরা ফুরকান ৬৩)
৫০. ইব্রাহীম আঃ এর পিতা তাঁকে কিভাবে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন?
ক) লাঠি দিয়ে
খ) দাউদ আঃ
গ) তীর দিয়ে
ঘ) পাথর দিয়ে
উত্তর: ঘ) পাথর দিয়ে
হে আমার পিতা! নিশ্চয় আমি আশংকা করছি যে, আপনাকে দয়াময়ের শাস্তি স্পর্শ করবে, তখন আপনি হয়ে পড়বেন শয়তানের বন্ধু। পিতা বলল, হে ইবরাহীম! তুমি কি আমার উপাস্যদের থেকে বিমুখ? যদি তুমি বিরত না হও তবে অবশ্যই আমি পাথরের আঘাতে তোমার প্রাণ নাশ করব; আর তুমি চিরতরে আমাকে ত্যাগ করে চলে যাও। (সূরা মারইয়াম ৪৫-৪৬)