কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২৬
প্রস্তুতি সহায়ক তাফসীর নোট পর্বঃ ৭
সূরা আল হুজুরাত (১১-১৮ আয়াত)
পূর্বের দু’টি আয়াতে মুসলমানদের পারস্পরিক লড়াই জরুরী নির্দেশনা দেয়ার পর ঈমানদারদেরকে এ অনুভূতি দেয়া হয়েছিল যে, ইসলামের পবিত্রতম সম্পর্কের ভিত্তিতে তারা একে অপরের ভাই এবং আল্লাহর ভয়েই তাদেরকে নিজেদের মধ্যকার সম্পর্ক ঠিক রাখার চেষ্টা করা উচিত। এখন পরবর্তী দু’টি আয়াতে এমন সব বড় বড় অন্যায়ের পথ রুদ্ধ করার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে যা সাধারণত লোকদের পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়। একে অপরের ইজ্জতের ওপর হামলা, একে অপরকে মনোকষ্ট দেয়া, একে অপরের প্রতি খারাপ ধারণা পোষণ করা এবং একে অপরের দোষ-ত্রুটি তালাশ করা পারস্পারিক শত্রুতা সৃষ্টির এগুলোই মূল কারণ। এসব কারণ অন্যান্য কারণের সাথে মিশে বড় বড় ফিতনার সৃষ্টি করে।
এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির সাথে উপহাস বা ঠাট্টা-বিদ্রূপ তখনই করে, যখন সে নিজেকে তার চাইতে উত্তম এবং তাকে নিজের চেয়ে হীন ও ছোট মনে করে। অথচ আল্লাহর কাছে ঈমান ও আমলের দিক দিয়ে কে উত্তম, আর কে নয় –এ জ্ঞান কেবল তাঁরই কাছে। কাজেই নিজেকে উৎকৃষ্ট এবং অপরকে নিকৃষ্ট মনে করার কোনই বৈধতা নেই। তাই আয়াতে অপরকে উপহাস করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। আর চারিত্রিক এ রোগ মহিলাদের মধ্যে অধিকহারে বিদ্যমান থাকায় তাদের কথা পৃথকভাবে উল্লেখ করে বিশেষভাবে তাদেরকে এ কাজ থেকে নিষেধ করা হয়েছে। রসূল (সাঃ)-এর হাদীসে মানুষকে তুচ্ছ মনে করাকে ‘অহংকার’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, (الْكِبْرُ بَطَرُ الْحَقِّ وَغَمْطُ النَّاسِ) (মুসলিম ৯১নং, তিরমিযী, হাকেম ১/২৬) আর অহংকার ও অহংকারীকে আল্লাহ চরম ঘৃণা করেন।
তোমরা একে অপরকে বিদ্রূপ করো না-
মূল আয়াতে لمز শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। শব্দটির মধ্যে বিদ্রূপ ও কুৎসা ছাড়াও আরো কিছু সংখ্যক অর্থ এর মধ্যে শামিল। যেমনঃ উপহাস করা, অপবাদ আরোপ করা, দোষ বের করা এবং খোলাখুলি বা গোপনে অথবা ইশারা-ইঙ্গিত করে কাউকে তিরস্কারের লক্ষ্যস্থল বানানো। এসব কাজও যেহেতু পারস্পরিক সুস্পর্ক নষ্ট করে এবং সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে তাই এসব কাজও হারাম করে দেয়া হয়েছে। এখানে আল্লাহর ভাষার চমৎকারিত্ব এই যে, لَايَلْمِزُ بَعْضُكُمْ بَعْضًا একে অপরকে বিদ্রূপ করো না।) বলার পরিবর্তে وَلَا تَلْمِزُوا أَنْفُسَكُمْ নিজেকে নিজে বিদ্রূপ করো না) কথাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এর দ্বারা স্বতই একথার ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, অন্যদের বিদ্রূপ ও উপহাসকারী প্রকৃতপক্ষে নিজেকেই বিদ্রূপ ও উপহাস করে। এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, যতক্ষণ না করো মনে কুপ্রেরণার লাভা জমে উপচে পড়ার জন্য প্রস্তুত না হবে ততক্ষণ তার মুখ অন্যদের কুৎসা রটনার জন্য খুলবে না। এভাবে এ মানসিকতার লালনকারী অন্যদের আগে নিজেকেই তো কুকর্মের আস্তানা বানিয়ে ফেলে। তারপর যখন সে অন্যদের ওপর আঘাত করে তখন তার অর্থ দাঁড়ায় এই যে, সে তার নিজের ওপর আঘাত করার জন্য অন্যদেরকে আহবান করছে। ভদ্রতার কারণে কেউ যদি তার আক্রমণ এড়িয়ে চলে তাহলে তা ভিন্ন কথা। কিন্তু যাকে সে তার বাক্যবাণের লক্ষ্যস্থল বানিয়েছে সে-ও পাল্টা তার ওপর আক্রমণ করুক এ দরজা সে নিজেই খুলে দিয়েছে।
এবং পরস্পরকে খারাপ নামে ডেকো না-
এ নির্দেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কোন ব্যক্তিকে এমন নামে ডাকা না হয় অথবা এমন উপাধি না দেয়া হয় যা তার অপছন্দ এবং যা দ্বারা তার অবমাননা ও অমর্যাদা হয়। যেমন কাউকে ফাসেক বা মুনাফিক বলা। কাউকে খোঁড়া, অন্ধ অথবা কানা বলা। কাউকে তার নিজের কিংবা মা-বাপের অথবা বংশের কোন দোষ বা ত্রুটির সাথে সম্পর্কিত করে উপাধি দেয়া। মুসলমান হওয়ার পর তার পূর্ব অনুসৃত ধর্মের কারণে ইহুদী বা খৃস্টান বলা। কোন ব্যক্তি, বংশ, আত্মীয়তা অথবা গোষ্ঠির এমন নাম দেয়া যার মধ্যে তার নিন্দা ও অপমানের দিকটি বিদ্যমান। তবে যেসব উপাধি বাহ্যত খারাপ কিন্তু তা দ্বারা কারো নিন্দা করা উদ্দেশ্য নয়, বরং ঐ উপাধি দ্বারা যাদের সম্বোধন করা হয় তা তাদের পরিচয়ের সহায়ক এমন সব উপাধি এ নির্দেশের মধ্যে পড়ে না। এ কারণে মুহাদ্দিসগণ “আসমাউর রিজাল” (বা হাদীসের রাবীদের পরিচয় মূলক) শাস্ত্রে সুলায়মান আল আ’মাশ (ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন সুলায়মান) এবং ওয়াসেল আল আহদাব (কুঁজো ওয়াসেল) এর মত নামের উল্লেখ রেখেছেন। যদি একই নামের কয়েকজন লোক থাকে এবং তাদের মধ্যে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে তার বিশেষ কোন উপাধি দ্বারাই কেবল চেনা যায় তাহলে ঐ উপাধি খারাপ হলেও তা বলা যেতে পারে। যেমন আবদুল্লাহ নামের যদি কয়েকজন লোক থাকে আর তাদের মধ্যে একজন অন্ধ হয় তাহলে তাকে চেনা সুবিধার জন্য আপনি অন্ধ আবদুল্লাহ বলতে পারেন। অনুরূপ এমন সব উপাধি বা উপনাম এ নির্দেশের মধ্যে পড়বে না যা দ্বারা বাহ্যত অমর্যাদা বুঝায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ভালবাসা ও স্নেহবশতই রাখা হয় এবং যাদেরকে এ উপাধি বা উপনামে ডাকা হয় তারা নিজেরাও তা পছন্দ করে। যেমন, আবু হুরাইরা এবং আবু তুরাব।
এই আয়াতে পারস্পরিক হক ও সামাজিক রীতি-নীতি ব্যক্ত হয়েছে এবং এতে তিনটি বিষয় হারাম করা হয়েছে। (এক) ধারণা, (দুই) কোন গোপন দোষ সন্ধান করা এবং (তিন) গীবত অর্থাৎ, কোন ব্যক্তি সম্পর্কে এমন কথা বলা যা সে শুনলে অসহনীয় মনে করত।
তন্মধ্যে প্রথম বিষয় হচ্ছে, الظن বা প্ৰবল ধারণা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমাদের কারও আল্লাহর প্রতি সু-ধারণা পোষণ ব্যতীত মৃত্যুবরণ করা উচিত নয়।” [মুসলিম: ৫১২৫, আবু দাউদ: ২৭০৬, ইবনে মাজাহ: ৪১৫৭] অন্য এক হাদীসে আছে ‘আমি আমার বান্দার সাথে তেমনি ব্যবহার করি, যেমন সে আমার সম্বন্ধে ধারণা রাখে। এখন সে আমার প্রতি যা ইচ্ছা ধারণা রাখুক। [মুসনাদে আহমাদ: ১৫৪৪২] এ থেকে জানা যায় যে, আল্লাহর প্রতি ভাল ধারণা পোষণ করা ফরয এবং কু-ধারণা পোষন করা হারাম। এমনিভাবে যেসব মুসলিম বাহ্যিক অবস্থার দিক দিয়ে সৎকর্মপরায়ণ দৃষ্টিগোচর হয়, তাদের সম্পর্কে প্রমাণ ব্যতিরেকে কু-ধারণা পোষণ করা হারাম। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কেননা, ধারণা মিথ্যা কথার নামান্তর।’ [বুখারী: ৪০৬৬, মুসলিম: ২৫৬৩]
আয়াতে দ্বিতীয় নিষিদ্ধ বিষয় হচ্ছে, কারও দোষ সন্ধান করা। এর দ্বারা নানা রকম ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি হয়। এ কারণে একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার খোতবার দোষ অন্বেষণকারীদের সম্পর্কে বলেছেনঃ “হে সেই সব লোকজন, যারা মুখে ঈমান এনেছো কিন্তু এখনো ঈমান তোমাদের অন্তরে প্ৰবেশ করেনি, তোমরা মুসলিমদের গোপনীয় বিষয় খোঁজে বেড়িও না। যে ব্যক্তি মুসলিমদের দোষ-ত্রুটি তালাশ করে বেড়াবে আল্লাহ্ তার দোষ-ত্রুটির অন্বেষণে লেগে যাবেন। আর আল্লাহ যার ত্রুটি তালাশ করেন তাকে তার ঘরের মধ্যে লাঞ্ছিত করে ছাড়েন।” [আবু দাউদ: ৪৮৮০]
মু’আবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি নিজে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “তুমি যদি মানুষের গোপনীয় বিষয় জানার জন্য পেছনে লাগো। তাদের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করবে কিংবা অন্তত বিপর্যয়ের দ্বার প্রান্তে পৌছে দেবে।” [আবু দাউদ: ৪৮৮৮] অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মুসলিমদের গীবত করো না এবং তাদের দোষ অনুসন্ধান করো না। কেননা, যে ব্যক্তি মুসলিমদের দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ অনুসন্ধান করেন। আল্লাহ যার দোষ অনুসন্ধান করেন, তাকে স্ব-গৃহেও লাঞ্ছিত করে দেন।” [আবু দাউদ: ৪৮৮০]
দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান না করার এ নির্দেশ শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, বরং ইসলামী সরকারের জন্যেও। এ ক্ষেত্রে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর এ ঘটনা অতীব শিক্ষাপ্ৰদ। একবার রাতের বেলা তিনি এক ব্যক্তির কণ্ঠ শুনতে পেলেন। সে গান গাইতেছিল। তাঁর সন্দেহ হলো। তিনি তার সাথী আব্দুর রহমান ইবন আওফ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বললেনঃ এ ঘরটি কার? বলা হল, এটা রবী’আ ইবন উমাইয়া ইবন খালফ এর ঘর। তারা এখন শরাব খাচ্ছে। আপনার কি অভিমত? অতঃপর আব্দুর রাহমান ইবন আওফ বললেন, আমার অভিমত হচ্ছে যে, আমরা আল্লাহ যা নিষেধ করেছে তা-ই করে ফেলছি। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করে বলেছেনঃ “তোমরা গোপন বিষয়ে অন্বেষণ করো না”। [সূরা আল হুজুরাত: ১২] তখন উমর ফিরে আসলেন এবং তাকে ছেড়ে গেলেন। [মুস্তাদরাকে হাকিম: ৮২৪৯, মাকারিমূল আখলাক: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল খারায়েতী: ৩৯৮, ৪২০, মুসান্নাফে আব্দির রাজ্জাক; ১০/২২১]
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, খুঁজে খুঁজে মানুষের গোপন দোষ-ত্রুটি বের করা এবং তারপর তাদেরকে পাকড়াও করা শুধু ব্যক্তির জন্যই নয়, ইসলামী সরকারের জন্যও জায়েয নয়। একটি হাদীসেও একথা উল্লেখিত হয়েছে উক্ত হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “শাসকরা যখন সন্দেহের বশে মানুষের দোষ অনুসন্ধান করতে শুরু করে তখন তাদের চরিত্র নষ্ট করে দেয়।” [আবু দাউদ: ৪৮৮৯]
আয়াতে নিষিদ্ধ তৃতীয় বিষয় হচ্ছে গীবত। গীবতের সংজ্ঞায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “কোন ব্যক্তি সম্পর্কে কারো এমন কথা বলা যা শুনলে সে অপছন্দ করবে। প্রশ্ন হলো, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে সত্যিই থেকে থাকে তাহলে আপনার মত কি? তিনি বললেনঃ তুমি যা বলছো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তো তুমি তার গীবত করলে। আর তা যদি না থাকে তাহলে অপবাদ আরোপ করলে।” [মুসলিম: ২৫৮৯, আবু দাউদ: ৪৮৭৪, তিরমিযীঃ ১৯৩৪]
এই আয়াতে তিনটি বিষয় নিষিদ্ধ করতে গিয়ে গীবতের নিষিদ্ধতাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং একে মৃত মুসলিমের মাংস ভক্ষণের সমতুল্য প্রকাশ করে এর নিষিদ্ধতা ও নীচতা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মি’রাজের রাত্রির হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তারপর আমাকে নিয়ে যাওয়া হল, আমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছ দিয়ে গেলাম যাদের নখ ছিল তামার। তারা তাদের মুখমণ্ডল ও দেহের মাংস আচড়াচ্ছিল। আমি জিবরীল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলাম, এরা কারা? তিনি বললেনঃ এরা তাদের ভাইয়ের গীবত করত এবং তাদের ইজ্জতিহানি করত। [মুসনাদে আহমাদ: ৩/২২৪, আবু দাউদ: ৪৮৭৮]
আল্লাহর এ বাণীটিই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বিভিন্ন বক্তৃতা ও উক্তিতে আরো স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছেন। যেমন-মক্কা বিজয়ের সময় কা’বার তাওয়াফের পর তিনি যে বক্তৃতা করেছিলেন তাতে বলেছিলেনঃ “সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর যিনি তোমাদের থেকে জাহেলিয়াতের দোষ-ত্রুটি ও অহংকার দূর করে দিয়েছেন। হে লোকেরা! সমস্ত মানুষ দু’ ভাগে বিভক্ত। এক, নেককার ও পরহেজগার যারা আল্লাহর দৃষ্টিতে মর্যাদার অধিকারী। দুই, পাপী ও দুরাচার যারা আল্লাহর দৃষ্টিতে নিকৃষ্ট। অন্যথায় সমস্ত মানুষই আদমের সন্তান। আর আদম মাটির সৃষ্টি।” [তিরমিযী: ৩১৯৩]
অনুরূপভাবে, বিদায় হজ্জের সময় আইয়ামে তাশরীকের মাঝামাঝি সময়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বক্তৃতা করেছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, “হে লোকজন! সাবধান তোমাদের আল্লাহ একজন। কোন অনারবের ওপর কোন আরবের ও কোন আরবের ওপর কোন অনারবের কোন কৃষ্ণাঙ্গের ওপর শ্বেতাঙ্গের ও কোন শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণঙ্গের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই আল্লাহভীতি ছাড়া। তোমাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশী আল্লাহভীরু সেই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদাবান। আমি কি তোমাদেরকে পৌঁছিয়েছি? তারা বলল, আল্লাহর রাসূল পৌঁছিয়েছেন। তিনি বললেন, তাহলে যারা এখানে উপস্থিত আছে তারা যেন অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ বাণী পৌছিয়ে দেয়।” [মুসনাদে আহমাদ: ৫/৪১১]
অন্য হাদীসে এসেছে, “তোমরা সবাই আদমের সন্তান। আর আদমকে মাটি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছিল। লোকজন তাদের বাপদাদার নাম নিয়ে গর্ব করা থেকে বিরত হোক। তা না হলে আল্লাহর দৃষ্টিতে তারা নাক দিয়ে পায়খানা ঠেলে এমন নগণ্য কীট থেকেও নীচ বলে গণ্য হবে।” [মুসনাদে বাযযার: ৩৫৮৪] আর একটি হাদীসে তিনি বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তোমাদের বংশ ও আভিজাত্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না। তোমাদের মধ্যে যে বেশী আল্লাহভীরু সে-ই আল্লাহর কাছে সর্বাধিক মর্যাদার অধিকারী”। [ইবনে জারীর: ৩১৭৭২] আরো একটি হাদীসের ভাষা হচ্ছেঃ “আল্লাহ তা’আলা তোমাদের চেহারা-আকৃতি ও সম্পদ দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও কাজ-কর্ম দেখেন।” [মুসলিম: ২৫৬৪, ইবনে মাজাহ: ৪১৪৩]
কোন কোন মুফাসসিরের মতে এই বেদুঈন লোকগুলো হল, বানু আসাদ এবং খুযায়মা গোত্রের মুনাফিকরা। যারা দুর্ভিক্ষের সময় কেবল সাদাকা লাভের উদ্দেশ্যে অথবা হত্যা ও বন্দী হওয়া থেকে বাঁচার জন্য মৌখিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করার কথা ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান, বিশুদ্ধ আকীদা এবং আন্তরিকতা থেকে খালি ছিল। (ফাতহুল ক্বাদীর) তবে ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট এ থেকে এমন বেদুঈন লোকদেরকে বুঝানো হয়েছে, যারা নতুন নতুন মুসলমান হয়েছিল এবং ঈমান এখনো পর্যন্ত তাদের অন্তরে দৃঢ়ভাবে স্থান পায়নি। অথচ তারা দাবী করেছিল ততটা ঈমান থেকেও বেশী, যতটা তাদের হৃদয়ে ছিল না। যার ফলে তাদেরকে এ আদব শিখানো হল যে, প্রথমেই ঈমানের দাবী করা ঠিক নয়। ধীরে ধীরে উন্নতি লাভের পরই তোমরা ঈমানের বাঞ্ছিত স্তরে পৌঁছতে পারবে।
{وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا} (বরং বলো, ‘আমরা আত্মসমর্পণ করেছি’)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৪) অর্থাৎ, আমরা ইসলামে প্রবেশ করেছি এবং কেবল এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকো। এর কারণ হলো, {لَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} (ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৪) তোমরা তো কেবল ভয়, আশা বা এ জাতীয় কোনো কারণে ঈমান এনেছ, যা তোমাদের ঈমান আনার কারণ ছিল। একারণেই ঈমানের প্রফুল্লতা তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।
আল্লাহর বাণী: {وَلَمَّا يَدْخُلِ الْإِيمَانُ فِي قُلُوبِكُمْ} (ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি)-এর মধ্যে তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। কারণ তাদের মধ্য থেকে অনেকের ওপরই আল্লাহ পরবর্তীতে প্রকৃত ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদের তাওফীক দিয়ে অনুগ্রহ করেছিলেন।
{وَإِنْ تُطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ} (আর যদি তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো) কোনো ভালো কাজ করার মাধ্যমে বা মন্দ কাজ বর্জন করার মাধ্যমে, {لَا يَلِتْكُمْ مِنْ أَعْمَالِكُمْ شَيْئًا} (তবে তিনি তোমাদের আমল থেকে সামান্য পরিমাণও কমাবেন না)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৪) অর্থাৎ, তিনি তোমাদের আমল থেকে এক অণু পরিমাণও হ্রাস করবেন না, বরং তোমাদেরকে তা পরিপূর্ণভাবে প্রদান করবেন। তোমরা ছোট বা বড় কোনো প্রতিদানই হারাবে না। {إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} (নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৪) অর্থাৎ, যারা তাঁর কাছে তওবা করে ও ফিরে আসে, তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল এবং তাদের প্রতি দয়ালু, কারণ তিনি তাদের তওবা কবুল করেন।
{إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ} (প্রকৃত মুমিন তো তারাই) অর্থাৎ, সত্যিকারের মুমিন হলো {الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ} (যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনে, অতঃপর সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৫) অর্থাৎ, যারা ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদকে একত্রিত করেছে। কারণ যে ব্যক্তি কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে, তা তার অন্তরের পূর্ণ ঈমানের প্রমাণ বহন করে। কেননা যে ব্যক্তি অপরকে ইসলামের বিধান পালনের জন্য জিহাদ করতে উদ্বুদ্ধ করে, তার নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করা তো আরও উত্তম ও অধিকতর সঙ্গত। আর যে ব্যক্তি জিহাদে সক্ষম নয় (বা করে না), তা তার ঈমানের দুর্বলতার প্রমাণ। আল্লাহ ঈমানের জন্য সন্দেহমুক্ত হওয়ার শর্তারোপ করেছেন। ‘রইব’ (الريب) অর্থ হলো সন্দেহ। কারণ উপকারী ঈমান হলো সেই দৃঢ় ও নিশ্চিত বিশ্বাস, যা আল্লাহ যা কিছুর ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন, তার ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং যাতে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ নেই।
আল্লাহর বাণী: {أُولَئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ} (তারাই সত্যবাদী)। (সূরা আল-হুজুরাত, ৪৯:১৫) অর্থাৎ, তারাই সেই লোক, যারা তাদের সুন্দর আমলের মাধ্যমে নিজেদের ঈমানকে সত্য প্রমাণ করেছে। কারণ ‘সত্যবাদিতা’ প্রতিটি দাবির ক্ষেত্রে একটি বড় বিষয়, যার প্রমাণ ও দলিল করা দাবিদারের জন্য আবশ্যক। এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দাবি হলো ঈমানের দাবি, যা চিরস্থায়ী সৌভাগ্য, অনন্তকালীন সাফল্য এবং চিরন্তন মুক্তির মূল ভিত্তি। যে ব্যক্তি এই দাবি করে এবং এর আবশ্যকীয় দায়িত্ব ও لوازمات (আনুষঙ্গিক বিষয়) পালন করে, সে-ই সত্যিকারের মুমিন ও সত্যবাদী। আর যে এমনটি করে না, বোঝা যায় যে সে তার দাবিতে সত্যবাদী নয় এবং তার দাবির কোনো ফায়দা নেই। ঈমান অন্তরের বিষয়, যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। সুতরাং (আমল ছাড়া) ঈমান প্রমাণ বা অস্বীকার করার চেষ্টা করা আল্লাহর অন্তরের জ্ঞান সম্পর্কে তাঁকে শেখানোর শামিল, যা এক ধরনের মন্দ আচরণ এবং আল্লাহর প্রতি মন্দ ধারণা।
এখানে تعليم শব্দটি اعلام বা জানানোর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ তোমাদের দীন ও অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলাকে অবগত করছ? বেদুঈনরা যখন নিজেদেরকে মু’মিন বলে দাবী করল আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে নির্দেশ দিলেন : “তুমি বল : তোমরা ঈমান আননি ও তোমাদের অন্তরে এখনো ঈমান প্রবেশ করেনি” বলে তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার জন্য এবং আরো নির্দেশ দিলেন যেন তিনি তাদেরকে ভর্ৎসনা করে বলেন : “তোমরা কি তোমাদের দীনের খবর আল্লাহকে জানাচ্ছ?”। তোমরা মুখে যতই বল আমরা মু’মিন, প্রকৃতপক্ষে কে মু’মিন আর কে ছদ্মবেশী মু’মিন, নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ইসলামের ছায়া তলে এসেছে, আল্লাহ তা‘আলা তার সব কিছু সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন।
এই বেদুঈনরাই নবী করীম (সাঃ)-কে বলত যে, দেখ! আমরা মুসলমান হয়ে গেছি এবং তোমার সাহায্য-সহযোগিতা করেছি। অথচ আরবের অন্যান্য লোকেরা তোমার সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। মহান আল্লাহ তাদের কথা খন্ডন করে বললেন, তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছ এ কথা মনে করো না। কেননা, তোমরা যদি সত্যিকারেই নিষ্ঠার সাথে মুসলিম হয়ে থাক, তবে তাতে লাভ তোমাদের নিজেদেরই হবে। অতএব, এটা আল্লাহরই তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ যে, তিনি তোমাদেরকে ইসলাম গ্রহণ করার তাওফীক দান করেছেন। তাঁর উপর তোমাদের কোন অনুগ্রহ নেই।
মহান আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: হে বেদুঈনরা, নিশ্চয়ই আল্লাহ, তোমাদের মধ্যে কে সত্যবাদী আর কে মিথ্যাবাদী, তা তাঁর কাছে গোপন থাকে না। আর কে ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে এ ধর্মে প্রবেশ করেছে এবং কে আমাদের রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর বাহিনীর ভয়ে এতে প্রবেশ করেছে, তাও তিনি জানেন। সুতরাং তোমরা তোমাদের ধর্ম এবং তোমাদের অন্তরের গোপন বিষয় সম্পর্কে আমাদেরকে জানাতে এসো না। কেননা, আল্লাহ জানেন যা তোমাদের অন্তর গোপন রাখে এবং যা নিয়ে তোমরা মনে মনে কথা বলো। তিনি তোমাদের থেকে যা গোপন, যা আসমান ও যমীনের গভীরে লুকিয়ে আছে, তাও জানেন। কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন নয়। {وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ} (এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা)। তিনি বলছেন: এবং আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্মসমূহ দেখেন, তোমরা প্রকাশ্যে কর বা গোপনে, আনুগত্যের সাথে কর বা অবাধ্যতার সাথে। তিনি তোমাদের সকল কাজের প্রতিদান দেবেন; যদি ভালো হয় তবে ভালো প্রতিদান, আর যদি মন্দ হয় তবে মন্দ ও তার সমতুল্য প্রতিদান।
ফুটনোট
তৃতীয় পর্ব: পারস্পরিক সম্মান এবং মন্দ ধারণা থেকে বেঁচে থাকার নির্দেশনা
এই পর্বে আল্লাহ সেই সব সূক্ষ্ম কিন্তু ধ্বংসাত্মক আচরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন, যা মানুষের পারস্পরিক সম্মান ও ভালোবাসাকে নষ্ট করে দেয়।
- উপহাস ও বিদ্রূপ থেকে বিরত থাকা:
“হে বিশ্বাসীগণ! কোনো পুরুষ যেন অন্য কোনো পুরুষকে উপহাস না করে… আর কোনো নারীও যেন অন্য কোনো নারীকে উপহাস না করে।” কারণ, যাকে উপহাস করা হচ্ছে, সে হয়তো উপহাসকারীর চেয়ে উত্তম হতে পারে।
- মন্দ নামে না ডাকা:
“তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেকো না।” ঈমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
- ধারণা, গোয়েন্দাগিরি ও গীবত থেকে বেঁচে থাকা:
আল্লাহ তিনটি ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেন:
- অধিক ধারণা করা: “তোমরা অধিক ধারণা থেকে বেঁচে থাকো, কারণ কোনো কোনো ধারণা পাপ।”
- গোয়েন্দাগিরি করা: “তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় সন্ধান করো না।”
- গীবত বা পরনিন্দা করা: “এবং একে অপরের গীবত করো না।” আল্লাহ গীবতকে তার মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য কাজের সাথে তুলনা করেছেন।
চতুর্থ পর্ব: মানবজাতির ঐক্য এবং মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি
সামাজিক এই বিধানাবলীর পর, সূরাটি এবার সমগ্র মানবজাতির দিকে ফিরে আসে এবং তাদের ঐক্যের মূল ভিত্তি ও মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি ঘোষণা করে।
- মানবজাতির একক উৎস:
“হে মানবজাতি! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদের বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো।”
- মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি:
জাতি, বর্ণ, গোত্র বা ভাষার ভিত্তিতে কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। আল্লাহ বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আল্লাহভীরু (মুত্তাকি)।”
পঞ্চম পর্ব: ঈমান ও ইসলামের পার্থক্য এবং চূড়ান্ত সত্য
সূরার শেষাংশে আল্লাহ কতিপয় মরুবাসী আরবের ঈমানের দাবির জবাবে ঈমান ও ইসলামের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরেন।
- ঈমানের দাবি বনাম বাস্তবতা:
তারা যখন বলল, “আমরা ঈমান এনেছি,” তখন আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (ﷺ) বলতে বলেন: “বলো, ‘তোমরা ঈমান আনোনি, বরং বলো, আমরা আত্মসমর্পণ করেছি (ইসলাম গ্রহণ করেছি)’, কারণ ঈমান এখনো তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি।”
- প্রকৃত ঈমানের পরিচয়:
প্রকৃত বিশ্বাসী তো তারাই, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনার পর আর কোনো সন্দেহ পোষণ করে না এবং নিজেদের সম্পদ ও জীবন দিয়ে আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে। তারাই হলো সত্যবাদী।
সূরাটি শেষ হয় আল্লাহর সর্বব্যাপী জ্ঞানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে। তিনি আকাশ ও পৃথিবীর সবকিছু জানেন এবং মানুষের সকল কর্ম প্রত্যক্ষ করেন। সুতরাং, কেউ যেন নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা বলে আল্লাহর উপর অনুগ্রহ দেখানোর চেষ্টা না করে। বরং আল্লাহই ঈমানের পথ দেখিয়ে মানুষের উপর অনুগ্রহ করেছেন।
শিক্ষণীয় বিষয় :
১. মানুষকে নিয়ে ঠাট্টা করা হারাম। কাউকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা ও মন্দ নামে ডাকাও হারাম। এ সব কাজ সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে।
অহেতুক কারো ব্যাপারে কু-ধারণা করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
২. ফাসাদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে গোয়েন্দাগিরি করা হারাম।
৩. গীবত একটি ঘৃণ্য আচরণ যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে।
৪. মানব জাতির উৎস আদম ও হাওয়া (আঃ)।
৫. মানব জাতিকে বিভিন্ন গোত্রে ও জাতিতে বিভক্ত করা হয়েছে পরস্পরে পরিচয় লাভের জন্য ।
৬. শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি একমাত্র তাকওয়া। গোত্র, জাতি বা দেশ নয়।
৭. প্রকৃত মু’মিনদের মুখের জবান ও অন্তরের বিশ্বাস এক ও অভিন্ন থাকবে।
৮. ঈমান ও ইসলামের মাঝে সম্পর্ক একটি অপরটির পরিúূরক; বিপরীত নয়।
৯. প্রকৃত মু’মিনরা ঈমান আনার পর ঈমান থেকে সরে পড়ে না।
১০. সকল সৃষ্টি আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞান দ্বারা বেষ্টিত।
১১. সকল গায়েব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জ্ঞানায়ত্ত, অন্য কেউ গায়েব জানে না।
১২. ভাল কাজ করলে তা নিজের উপকারে আসবে আর খারাপ কাজ করলে তার পরিণতি নিজেকেই ভোগ করতে হবে।