ইলমুত তাজওঈদ

কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২৪

প্রস্তুতি সহায়ক তাফসীর নোট পর্বঃ ২১

ইলমুত তাজওঈদ

মাখরাজ

মাখরাজ বলা হয় আরবী অক্ষর গুলো মুখ ও গলা’র যেসব স্থান থেকে উচ্চারিত হয় সেসব স্থানকে। ২৯টি অক্ষর প্রত্যেকটি তার নিজস্ব স্বকীয়তা অনুযায়ী মুখ ও গলার মোট ১৭টি স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। তাই ‘মাখরাজ’ মোট ১৭টি। এই ১৭টি ‘মাখরাজ‘ আবার উচ্চারিত হয় ৫ স্থান থেকে যাকে ‘মাকাম‘ বলা হয়। এক অক্ষরের উচ্চারণ আরেক অক্ষরের মতো হয়ে গেলে অর্থের পরিবর্তন হয়ে যায় তাই মাখরাজ জানা ও তা মেনে কুরআন পড়া অতীব জরুরী একটি বিষয়।

৫টি মাকাম

جوف- জওফ অর্থা‌ৎ মুখের মধ্যের খালি জায়গা

حلق- হলক অর্থা‌ৎ কণ্ঠনালী

لسن- লিসান অর্থা‌ৎ জিহ্বা

شفتان- শাফাতান অর্থা‌ৎ দুই ঠোঁট

خيشوم- খাইশুম অর্থা‌ৎ নাসিকামূল

 

২৯টি অক্ষরের মাখরাজ
মাকাম অর্থা‌ৎ উচ্চারণের স্থান মাখরাজ উচ্চারণের উপস্থান ও সংখ্যা মাখরাজ অর্থা‌ৎ উচ্চারণের উপস্থান হরফ সংখ্যা হরফ
জউফ অর্থা‌ৎ মুখের মধ্যের খালি জায়গা থেকে ১ টি মুখের ভিতরের খালি জায়গা ৩ টি (শর্ত সাপেক্ষে) وا ي
হলক অর্থা‌ৎ কণ্ঠনালী থেকে ৩ টি আদনায়ে হলক ৬ টি خ غ
অসতে হলক ع ح
আকসায়ে হলক ء ه
লিসান অর্থা‌ৎ জিহ্বা থেকে ১০ টি আকসায়ে লিসান (আলজিব) ও তালু ১৮ টি ق
আকসায়ে লিসান ও তালু থেকে (সামান্য মুখের দিকে সরে) ك
ওছতে লিসান (জিহ্বার মধ্যস্থল) ও তালু ج ش ى
জিহ্বার ডান/বাম কিনারা ও আদরাসে উলিয়া (পিষণ দাত) এর মাড়ি ض
জিহ্বার সামনের কিনারা ও উপরের দাতের মাড়ি ও তালুর কিছু অংশ ل
উপরের মাখরাজ থেকে সামান্য মুখের দিকে সরে ن
জিহ্বার সামনের অংশের পিঠ ও সানায়া উলিয়া(উপরের মধ্যভাগের দুই দাত) এর মাড়ি ر
জিহ্বার অগ্রভাগ ও সানায়া উলিয়ার মাড়ি ও তালুর কিছু অংশ ت د ط
জিহ্বার অগ্রভাগ এবং সানায়া উলিয়া ও সানায়া সুফলা ( নিচের মধ্যভাগের দুই দাত) এর মধ্যভাগ ز س ص
জিহ্বার অগ্রভাগ ও সানায়া উলিয়া এর অগ্রভাগ ث ذ ظ
শাফাতান অর্থা‌ৎ দুই ঠোঁট থেকে ২ টি সানায়া উলিয়ার অগ্রভাগ ও নিচের ঠোটের ভিতরের অংশ ৪ টি ف
উভয় ঠোটকে মিলিয়ে ب م و
খাইশুম অর্থাৎ নাসিকামূল থেকে ১টি নাকের মূল ২ টি (শর্ত সাপেক্ষে) ن م

 

মাদ্দ এর পরিচয়

মাদ্দ অর্থ দীর্ঘ করা বা লম্বা করা। পরিভাষায় টেনে বা দীর্ঘ করে পড়াকে মাদ্দ বলে।

মাদ্দের হরফ তিনটি। যেমনঃ ( ا, و , ى )
এক আলিফ মাদ্দ তিন প্রকার। যথাঃ
(১) মাদ্দে তবায়ী 

(২) মাদ্দে বদল 
(৩) মাদ্দে লীন 

মাদ্দে তবায়ী: যবরের বাম পাশে খালি আলিফ (ا), যেরের বাম পাশে যযম ওয়ালা ইয়া (يْ), পেশের বাম পাশে যযম ওয়ালা ওয়াও (وْ) হলে এক আলিফ টেনে পড়তে হয়, তাকে মাদ্দে তবায়ী বলে বা মাদ্দে আছলী বলে।  যেমনঃ( بَا, بِيْ , بُوْ )

আবার খাড়া যবর ( ٰ ), খাড়া যের ( ٖ ), উল্টা পেশ ( ٗ ) থাকলে এক আলিফ টেনে পড়তে হয়। যেমনঃ ( قٰلَ, بِهٖ, لَهٗ )
মাদ্দে বদল: মাদ্দের হরফের পূর্বে “হামযাহ” আসলে এক আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে বদল বলে।আবার হামযায় খাড়া যবর ( ٰ ), খাড়া যের ( ٖ ), উল্টা পেশ ( ٗ ) হলে তাকেও মাদ্দে বদল বলে । যেমনঃ

 

١ِيمَانََا

١ُوْمِنَ

١ٰمَنَ

١ٰمِيْنُٗ

١ٖلٰفِ

١ُوْتِيَ

 

লীনের হরফ
লীনের হরফ ২টি।যথাঃ
যবর এর বাম পাশে যযম ওয়ালা ওয়াও (وْ

যবর এর বাম পাশে যযম ওয়ালা ইয়া (يْ)

মাদ্দে লীন: ওয়াও সাকিন অথবা ইয়া সাকিন এর পূর্বে যবর হলে এবং পরবর্তী হরফে ওয়াক্‌ফ (নিঃশ্বাস ও আওয়াজকে শেষ করে পড়ার নাম ওয়াক্‌ফ)  করলে  এক আলিফ টেনে পড়তে হয় , ইহাকে মাদ্দে লীন বলে। যেমনঃ خَوْفُٗ , بَيْتُٗ

এক আলিফ পরিমাণ লম্বা বলতে কতটুকু বোঝায়?
দুটি হরকত পড়তে যতোটুকু সময় লাগে এক আলিফ টেনে পড়তে ততোটুকু সময় লাগে।আবার , একটি আংগুল স্বাভাবিক গতিতে বন্ধ থেকে খুলে সোজা করতে যে সময় লাগে সেই সময় পরিমান হচ্ছে এক আলিফ।

 

তিন আলিফ মাদ্দ
তিন আলিফ মাদ্দ দুই প্রকার। যথাঃ
(১) মাদ্দে আরেজী
(২) মাদ্দে মুনফাসিল 

 

মাদ্দে আরেজী: মাদ্দের হরফের পরে ওয়াক্‌ফ করলে এবং পরবর্তী হরফটি অস্থায়ী সাকিন হলে তিন আলিফ টেনে পড়তে হয়। ইহাকে মাদ্দে আরেজী বলে। যেমনঃ يَعْلَمُوْنَ , حِسَابُٗ

মাদ্দে মুনফাসিল: মাদ্দের হরফের বাম পাশে আলিফের ছুরতে হামযাহ আসলে তাকে মাদ্দে মুনফাসিল বলে। ইহাকে তিন আলিফ লম্বা করে পড়তে হয়।যেমনঃ لَآاِلٰهَ اِلَّااللّٰهُ

 

চার আলিফ মাদ্দ পাঁচ প্রকার। যথাঃ
(১) মাদ্দে  মুত্তাসিল  

(২) মাদ্দে লাযিম কালমী মুসাক্কাল

(৩) মাদ্দে লাযিম কালমী মুখাফ্‌ফাফ 

(৪) মাদ্দে লাযিম হারফী মুসাক্কাল 
(৫) মাদ্দে লাযিম  হারফী মুখাফ্‌ফাফ 

 

মাদ্দে মুত্তাসিল: মদের হরফের পরে একই শব্দে হামযাহ্‌  আসলে চার আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে মুত্তাসিল বলে। যেমনঃ جَآءَ, سَوَآءُٗ

 

মাদ্দে লাযিম কালমী মুসাক্কাল : একই শব্দে মাদ্দের হরফের পরে তাশদীদ যুক্ত হরফ আসলে চার আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে লাযিম কালমী মুসাক্কাল বলে।যেমনঃ ضَآلََّا, دَآبَّةِ

মাদ্দে লাযিম কালমী মুখাফ্‌ফাফ: একই শব্দে মাদ্দের হরফের পরে যজম যুক্ত হরফ আসলে চার আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে লাযিম কালমী মুখাফ্‌ফাফ বলে।যেমনঃ اٰلْٓئٰنَ , اٰلْٓاٰنَ

মাদ্দে লাযিম হারফী মুসাক্কাল: কোনো শব্দ বা কালিমা ব্যতীত শুধু হরফের মধ্যে মাদ্দের হরফের পর তাশদীদ যুক্ত সাকিন আসলে চার আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে লাযিম হারফী মুসাক্কাল বলে।যেমনঃ الٓمّٓ , طٰسٓمّٓ

মাদ্দে লাযিম হারফী মুখাফ্‌ফাফ: কোন শব্দ বা কালিমা ব্যতীত শুধু হরফের মধ্যে মাদ্দের হরফের পর যজম যুক্ত সাকিন আসলে চার আলিফ টেনে পড়তে হয়, ইহাকে মাদ্দে লাযিম হারফী মুখাফ্‌ফাফ বলে।যেমনঃ عٓسٓقٓ, قٓ, نٓ