সূরা সফ (১০-১৪ আয়াত)

কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২৪
প্রস্তুতি সহায়ক তাফসীর নোট পর্ব-১৮

সূরা সফ (১০-১৪ আয়াত)

এই আমল (অর্থাৎ, ঈমান ও জিহাদ)-কে বাণিজ্য বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। কারণ এতেও তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের মত লাভ হবে। আর সে লাভ কি? জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম হতে মুক্তি লাভ। এ থেকে বড় লাভ আর কি হতে পারে? এই লাভকে আল্লাহ অন্যত্র এইভাবে বর্ণনা করেছেন, إِنَّ اللهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنْفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ ‘‘অবশ্যই আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মু’মিনদের নিকট থেকে তাদের জান ও মালকে জান্নাতের বিনিময়ে।’’ (সূরা তাওবাহঃ ১১১)

আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে ঈমানের যে ব্যাপারটা স্থিরকৃত হয় তাকে  ব্যবসা বা কেনাবেচা বলে এখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে, ঈমান শুধুমাত্র একটা অতি প্রাকৃতিক আকীদা-বিশ্বাস নয়। বরং এটা একটি চুক্তি। এ চুক্তির প্রেক্ষিতে বান্দা তার নিজের প্রাণ ও নিজের ধন-সম্পদ আল্লাহর হাতে বিক্রি করে দেয়। আর এর বিনিময়ে সে আল্লাহর পক্ষ থেকে এ ওয়াদা কবুল করে নেয় যে, মরার পর পরবর্তী জীবনে তিনি তাকে জান্নাত দান করবেন। এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্নিহিত বিষয়বস্তু অনুধাবন করার জন্য সর্বপ্রথম কেনা-বেচার তাৎপর্য ও স্বরূপ কি তা ভালো ভাবে বুঝে নিতে হবে।

নিরেট সত্যের আলোকে বিচার করলে বলা যায় মানুষের ধন-প্রাণের মালিক হচ্ছেন আল্লাহ। কারণ তিনিই তার কাছে যা কিছু আছে সব জিনিসের স্রষ্টা। সে যা কিছু ভোগ ও ব্যবহার করেছে তাও তিনিই তাকে দিয়েছেন। কাজেই এদিক দিয়ে তো কেনাবেচার কোন প্রশ্নেই ওঠে না। মানুষের এমন কিছু নেই, যা সে বিক্রি করবে। আবার কোন জিনিস আল্লাহর মালিকানার বাইরেও নেই, যা তিনি কিনবেন। কিন্তু মানুষের মধ্যে এমন একটি জিনিস আছে, যা আল্লাহ‌ পুরোপুরি মানুষের হাতে সোর্পদ করে দিয়েছেন। সেটি হচ্ছে তার ইখতিয়ার অর্থাৎ নিজের স্বাধীন নির্বাচন ক্ষমতা ও স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি (Free will an freedom of choice)। এ ইখতিয়ারের কারণে অবশ্যই প্রকৃত সত্যের কোন পরিবর্তন হয় না। কিন্তু মানুষ এ মর্মে স্বাধীনতা লাভ করে যে, সে চাইলে প্রকৃত সত্যকে মেনে নিতে পারে এবং চাইলে তা অস্বীকার করতে পারে। অন্য কথায় এ ইখতিয়ারের মানে এ নয় যে মানুষ প্রকৃত পক্ষে তার নিজের প্রাণের নিজের বুদ্ধিবৃত্তি ও শারীরিক শক্তির এবং দুনিয়ায় সে যে কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা লাভ করেছে, তার মালিক হয়ে গেছে। এ সঙ্গে এ জিনিসগুলো সে যেভাবে চাইবে সেভাবে ব্যবহার করার অধিকার লাভ করেছে, একথাও ঠিক নয়। বরং এর অর্থ কেবল এতটুকুই যে, তাকে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছে, আল্লাহর পক্ষে থেকে কোন প্রকার জোর-জবরদস্তি ছাড়াই সে নিজেরই নিজের সত্তার ও নিজের প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর আল্লাহর মালিকানা ইচ্ছা করলে স্বীকার করতে পারে আবার ইচ্ছা করলে নিজেই নিজের মালিক হয়ে যেতে পারে এবং নিজেই একথা মনে করতে পারে যে, সে আল্লাহ‌ থেকে বেপরোয়া হয়ে নিজের ইখতিয়ার তথা স্বাধীন কর্মক্ষমতার সীমানার মধ্যে নিজের ইচ্ছামত কাজ করার অধিকার রাখে। এখানেই কেনা-বেচার প্রশ্নটা দেখা দেয়। আসলে এ কেনা-বেচা এ অর্থে নয় যে, মানুষের একটি জিনিস আল্লাহ‌ কিনতে চান, বরং প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে, যে জিনিসটি আল্লাহর মালিকানাধীন যাকে তিনি আমানত হিসেবে মানুষের হাতে সোর্পদ করেছেন এবং যে ব্যাপারে বিশ্বস্ত থাকার বা অবিশ্বস্ত হবার স্বাধীনতা তিনি মানুষকে দিয়ে রেখেছেন সে ব্যাপারে তিনি মানুষের দাবী করেন, আমার জিনিসকে তুমি স্বেচ্ছায় ও সাগ্রহে (বাধ্য হয়ে নাও)। এ সঙ্গে খেয়ানত করার যে স্বাধীনতা তোমাকে দিয়েছি তা তুমি নিজেই প্রত্যাহার করো। এভাবে যদি তুমি দুনিয়ার বর্তমান অস্থায়ী জীবনে নিজের স্বাধীনতাকে (যা তোমার অর্জিত নয় বরং আমার দেয়া) আমার হাতে বিক্রি করে দাও তাহলে আমি পরবর্তী চিরন্তন জীবনে এর মূল্য জান্নাতের আকারে তোমাকে দান করবো। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কেনা-বেচার এ চুক্তি সম্পাদন করে সে মু’মিন। ঈমান আসলে এ কেনা-বেচার আর এক নাম। আর যে ব্যক্তি এটা অস্বীকার করবে অথবা অঙ্গীকার করার পরও এমন আচরণ করবে যা কেবলমাত্র কেনা-বেচা না করার অবস্থায় করা যেতে পারে সে কাফের। আসলে এ কেনা-বেচাকে পাস কাটিয়ে চলার পারিভাষিক নাম কুফরী।

“তোমরা আল্লাহ এবং তার রাসুলের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করবে তোমাদের মাল এবং জান দ্বারা”। অর্থাৎ ব্যবসার যে কথা বলা হয়েছিল তা হল ঈমান এবং জিহাদ। ঈমান বিহীন জিহাদ কবুল হবে না। কোন অমুসলিম যদি ইসলামের জিহাদে অংশগ্রহণ করে তাহলে এ জিহাদ তাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাতে পারবে না। তেমনি ভাবে মুনাফেকের জিহাদও কবুল হবে না। মুনাফেক সরদার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সলুল এবং আরো অনেক মুনাফেক নবী করীম (সঃ) এর সাথে তাবুকসহ বহু জিহাদে অংশ গ্রহণ করে কিন্তু তাদের জিহাদ কোন কাজে আসেনি। তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।

জিহাদ করবে মাল এবং জান দিয়ে।” এখানে মালের কথা প্রথমে এজন্য বলা হয়েছে যে, মাল ছাড়া জিহাদ হয়না, জানের প্রয়োজন পড়তে পারে আল্লাহর ইচ্ছা হলে জানের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে কিন্তু মাল সেতো সর্বাবস্থায় প্রয়োজন। জিহাদে জানের চেয়ে বেশী প্রয়োজন মালের। “এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমরা বুঝ।” অর্থাৎ জিহাদ হচ্ছে উত্তম তোমাদের জান ও মাল হতে। কেননা এতে রয়েছে অগণিত কল্যাণ ও সওয়াব, ইহকালে ও পরকালের কল্যাণ ও মুক্তি যদি তোমরা এর মর্মকথা বুঝতে পার, এর কল্যান উপলদ্ধি কর।

 

 

এখান থেকে জিহাদের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আরো যা কিছু দান করবেন তার উল্লেখ করা হয়েছেঃ

(১) গুনাহ খাতা মাফ করে দিবেন, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন।

(২) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত আর সে জান্নাত এমন যা চিরস্থায়ী আবাসস্থল। এখানে লক্ষণীয় যে, “জান্নাতে প্রবেশ করাবেন” অর্থাৎ জিহাদ করলে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর দায়িত্ব। তিনি জিহাদকারীকে অবশ্যই জান্নাতে দাখিল করবে।

(৩) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্য আসবে। আল্লাহ তায়ালা তার পক্ষথেকে মুজাহিদদেরকে জিহাদে সাহায্য করবেন। রসুলুল্লাহ (সঃ) থেকে শুরু করে অদ্যাবধি আল্লাহ তায়ালা জিহাদে সাহায্য করেছেন যা হাদীস কোরআন এবং ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে।

(৪) নিকট বিজয় অর্থাৎ জিহাদে রত থাকলে আল্লাহ তায়ালা অচিরেই বিজয় দান করবেন। ইসলামের বিজয় পতাকা উড়বে।
এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, পরকালের অনুদান ও নিয়ামত গুলিকে পূর্বে বর্ণনা করা হয়েছে আর দুনিয়ার নেয়ামত ও অনুদানকে পরে উল্লেখ করা হয়েছে কেননা পরকালীন নিয়ামতই চিরস্থায়ী। পরকালীন সাফল্যই মুমিনের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আখেরাতের নেয়ামতের সাথে কিছু দুনিয়ার নেয়ামতেরও ওয়াদা করে বলা হয়েছে, (وَأُخْرَىٰ تُحِبُّونَهَا نَصْرٌ مِنَ اللَّهِ وَفَتْحٌ قَرِيبٌ  وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ) “এবং তিনি দান করবেন তোমাদের বাঞ্ছিত আরো একটি অনুগ্রহ। আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়; মুমিনদেরকে সুসংবাদ দিন।” অর্থাৎ আখেরাতের নেয়ামত ও বাসগৃহ তো পাওয়া যাবেই; দুনিয়াতেও একটি নগদ নেয়ামত পাওয়া যাবে, তা হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য ও আসন্ন বিজয়। এর অর্থ শত্রুদের উপর বিজয় লাভ। এখানে قَرِيبٌ (বা নিকট) শব্দটি আখেরাতের বিপরীতে ধরা হলে ইসলামের সকল বিজয়ই এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আর যদি প্রচলিত قَرِيبٌ (বা আসন্ন) ধরা হয়, তবে এর প্রথম অর্থ হবে খাইবার বিজয় এবং এরপর মক্কা বিজয়। تُحِبُّونَهَا অর্থাৎ, তোমরা এই নগদ নেয়ামত খুব পছন্দ কর। কারণ মানুষ স্বভাবগতভাবে নগদকে পছন্দ করে। পবিত্র কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে, (وَكَانَ الْإِنْسَانُ عَجُولًا) অর্থাৎ, মানুষ তড়িঘড়ি পছন্দ করে। [সূরা আল-ইসরা: ১১] এর অর্থ এই নয় যে, আখেরাতের নেয়ামত তাদের কাছে প্রিয় নয়। বরং অর্থ এই যে, আখেরাতের নেয়ামত তো তাদের প্রিয় কাম্যই, কিন্তু স্বভাবগতভাবে কিছু নগদ নেয়ামতও তারা দুনিয়াতে চায় তাও দেয়া হবে।

حَوَارِيْ শব্দটি حَوَرٌ ধাতু থেকে উৎপত্তি। অর্থ দেওয়ালে চুনকাম করার জন্য ধবধবে সাদা চুন। পারিভাষিক অর্থে ঈসা (আঃ)-এর খাঁটি অনুসারী শীর্ষস্থানীয় ভক্ত ও সাহায্যকারী ব্যক্তিগণকে ‘হাওয়ারী’ বলা হত। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেছেন তাদের সংখ্যা ছিল ১২জন। ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী ও সাহায্যকারীকে, সহচরদেরকে ‘হাওয়ারী’ বলা হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারী ও সহচরদেরকে ‘সাহাবী’ বলা হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন : প্রত্যেক নাবীর একজন বিশেষ সাহায্যকারী (হাওয়ারী) ছিল। আমার বিশেষ সাহায্যকারী হল যুবাইর (রাঃ)। (সহীহ বুখারী হা. ২৮৪৭, সহীহ মুসলিম হা. ২৪১৫)

এই আয়াতের তাফসীরে আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, ঈসা আলাইহিস সালাম আসমানে উত্থিত হওয়ার পর নাসারারা তিন দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একদল বলল, তিনি ইলাহ ছিলেন এবং আসমানে চলে গেছেন। দ্বিতীয় দল বলল, তিনি ইলাহ ছিলেন না বরং ইলাহর পুত্র ছিলেন। এখন আল্লাহ তাকে আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন এবং শত্রুদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। তৃতীয় দল বিশুদ্ধ ও সত্যকথা বলল। তারা বলল, “তিনি ইলাহও ছিলেন না, ইলাহর পুত্রও ছিলেন না; বরং আল্লাহর দাস ও রাসূল ছিলেন। আল্লাহ তা’আলা তাকে শক্ৰদের কবল থেকে হেফাযত ও উচ্চ মর্তবা দান করার জন্যে আকাশে উঠিয়ে নিয়েছেন।” মূলত: এরাই ছিল সত্যিকার ঈমানদার।

প্রত্যেক দলের সাথে কিছু কিছু জনসাধারণও যোগদান করে এবং পারস্পরিক কলহ বাড়তে বাড়তে যুদ্ধের উপক্রম হয়। ঘটনাচক্ৰে উভয় কাফের দল মুমিনদের মোকাবিলায় প্রবল হয়ে ওঠে। অবশেষে আল্লাহ তা’আলা সর্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রেরণ করেন। তিনি মুমিন দলকে সমর্থন দেন। এভাবে পরিণামে মুমিন দল যুক্তি প্রমাণের নিরীখে বিজয়ী হয়ে যায়। এই তফসীর অনুযায়ী আয়াতে উল্লেখিত (الَّذِينَ آمَنُوا) বা “যারা ঈমান এনেছে” বলে ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উম্মতের মুমিনগণকেই বোঝানো হয়েছে, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহায্য ও সমর্থনে বিজয়ের গৌরব অর্জন করবে। সে হিসেবে উম্মতে মুহাম্মদী যারা রাসূলের প্রকৃত অনুসারী তারা সর্বদা বিজয়ী থাকবে। [দেখুন: তাফসীরে তাবারী: ২৮/৬০, দ্বিয়া আল-মাকদেসী: আল-মুখতারাহ: ১০/৩৭৬–৩৭৮, নং ৪০২]

 

 

ফুটনোট 

✔ ব্যবসা শুধুমাত্র বস্তু এবং পার্থিব জীবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আল্লাহ এবং তাঁর প্রেরিত পুরুষদের সঙ্গে লেনদেন একটি অত্যন্ত লাভজনক ব্যবসা। এই ব্যবসায় পার্থিব জীবনেও লাভবান হওয়া যায় এবং আখিরাতেও চিরস্থায়ী সুখের আবাস জান্নাত লাভ করা সম্ভব।

✔ যে ব্যবসার  কথা বলা হয়েছিল তা হল ঈমান এবং জিহাদ। ঈমান বিহীন জিহাদ কবুল হবে না।

✔ মুমিন ব্যক্তিদেরকে নিজেদের ঈমান রক্ষা করার পাশাপাশি আল্লাহর দ্বীন রক্ষার্থে নিজেদের জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এখানে প্রস্তুতিটি গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় জীবন উৎসর্গ করার প্রয়োজন হবে না। কিন্তু প্রয়োজনের সময় জীবনের মায়া ত্যাগ করতে কুণ্ঠাবোধ করা যাবে না।

✔ জিহাদ করবে মাল এবং জান দিয়ে। মালের কথা প্রথমে এজন্য বলা হয়েছে যে, মাল ছাড়া জিহাদ হয়না, জানের প্রয়োজন পড়তে পারে আল্লাহর ইচ্ছা হলে জানের প্রয়োজন নাও পড়তে পারে কিন্তু মাল সেতো সর্বাবস্থায় প্রয়োজন।

✔ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী মুজাহিদগণ এই দুটি নেকির যেকোনো একটি লাভ করবেন। হয় তারা শহীদ হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন যা হচ্ছে মহা সাফল্য। অথবা আল্লাহর ইচ্ছায় জিহাদে বিজয়ী হবেন। এটিও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

✔ জিহাদের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা আরো যা কিছু দান করবেন তার উল্লেখ করা হয়েছেঃ

(১) গুনাহ খাতা মাফ করে দিবেন, ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন।

(২) জান্নাতে প্রবেশ করাবেন

(৩) আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সাহায্য আসবে।

(৪) নিকট বিজয়

✔ ঈসা (আঃ)-এর অনুসারী ও সাহায্যকারীকে, সহচরদেরকে ‘হাওয়ারী’ বলা হয়। নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অনুসারী ও সহচরদেরকে ‘সাহাবী’ বলা হয়।

✔ মুমিন ব্যক্তির কাছে তার জীবন ও সম্পদের চেয়ে দ্বীন রক্ষা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তিনি যেকোনো সময় জীবন ও সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকেন।