উলুমুল কুরআন

কুরআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২৪
প্রস্তুতি সহায়ক তাফসীর নোট পর্ব-২৩

কুরআনে উল্লেখিত রাসূলদের নামঃ

রাসূলগণের মধ্য থেকে ২৫ জনের নাম প্রায় ৫১০ টি আয়াতে উল্লেখিত হয়েছে-

 

১. আদম (আঃ) ২৫ বার।

২. ইদরীস (আঃ) ২ বার।

৩. নূহ (আঃ) ৪৩ বার। .

৪. হুদ (আঃ) ৮ বার।

৫. সালিহ (আঃ) ৯ বার।

৬. ইবরাহীম (আঃ) ৬৯ বার।

৭. লুত (আঃ) ১৭ বার।

৮. ইসমাঈল (আঃ) ১২ বার।

৯. ইসহাক (আঃ) ১৭ বার।

১০. ইয়াকূব (আঃ) ১৬ বার।

১১. ইউসুফ (আঃ) ২৭ বার।

১২. আইয়ুব (আঃ) ৪ বার।

১৩. শুয়াইব (আঃ) ১১ বার।

১৪. মূসা (আঃ) ১৩৬ বার।

১৫. হারুন (আঃ) ২০ বার।

১৬. ইউনুস (আঃ) ৪ বার।

১৭. দাউদ (আঃ) ১৬ বার।

১৮. সুলাইমান (আঃ) ১৭ বার।

১৯. ইল্ইয়াস (আঃ) ৩ বার।

২০. ইয়াসআ (আঃ) ১ বার।

২১. যুলকিফল (আঃ) ২ বার।

২২. যাকারিয়া (আঃ)৭ বার।

২৩. ইয়াহিয়া (আঃ) ৫ বার।

২৪. ঈসা (আঃ) ২৫ বার।

২৫. মুহাম্মাদ (সাঃ) ৪ বার।

 

মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নাম সূরা আল-ইমরান ১৪৪, সূরা আহযাব ৪০, সূরা মুহাম্মাদ ২ ও সূরা ফাতহ ২৯ আয়াত। আল্লাহ কুরআনে সকল নবী-রাসূলের ক্ষেত্রে তাঁদের নাম ধরে সম্বোধন করেছেন এবং তাদের ঘটনা বর্ণনার সময় তাঁদের নাম উলেলখ করেছেন। কিন্তু মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর ক্ষেত্রে কুরআনে ‘‘হে নবী” বা ‘‘হে রাসূল” বলে তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছে। আর তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে ‘‘নবী”,  ‘‘রাসূল” বা ‘‘আবদ” বলা হয়েছে। এজন্য কুরআনে শুধুমাত্র ৪টি স্থান ছাড়া কোথাও তাঁর নাম উল্লেখিত হয় নি।

 

কুরআন মাজীদে বর্ণিত মূল প্রতিপাদ্য বিষয়াদি পাঁচ প্রকার :

এক. ইলমুল আহকাম বা সাংবিধানিক জ্ঞান। অর্থাৎ ইবাদাত-উপাসনা, লেনদেন, ঘর-সংসার, আচার-অনুষ্ঠান ও রাজনীতিসহ যে কোন ক্ষেত্রে ওয়াজিব, মুবাহ, মাকরুহ ও হারাম বিষয়াদির জ্ঞানই হল সাংবিধানিক জ্ঞান।

দুই. “ইলমুল মুখাসামা তথা তর্ক শাস্ত্রীয় জ্ঞান। অর্থাৎ ইয়াহুদী, নাছারা, মুশরিক ও মুনাফিক এ চার ভ্রষ্টদলের সাথে তর্ক শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করা ।

তিন. ইলমুত তাযকীর বি আলাইল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর নিদর্শন সংক্রান্ত জ্ঞান।

চার. ইলমুত তাযকীর বি আয়্যামিল্লাহ তথা আল্লাহ্‌ তা’আলার সৃজিত বিশেষ ঘটনাসমূহের জ্ঞান।

পাচ. “ইলমুত তাযকীর বিল মাউত তথা পারলৌকিক জ্ঞান। অর্থাৎ মৃত্যু ও তৎপরবর্তী অবস্থা, হাশর-নাশর, হিসাব, মীযান এবং জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কিত জ্ঞান।

 

 

কুরআন মাজীদ নাযিল সংশ্লিষ্ট প্রকারসমূহঃ

নাযিল হওয়ার ক্ষেত্রে কুরআনের প্রকারভেদ হলো বারটি। যথা-

১. মাক্কী।

২. মাদানী।

৩. হাযারী অর্থাৎ গৃহে অবস্থানকালে অবতীর্ণ হওয়া।

৪. সাফারী অর্থাৎ ভ্রমণ অবস্থায় নাযিল হওয়া।

৫. নাহারী অর্থাৎ দিবাকালে নাযিল হওয়া।

৬. লাইলী অর্থাৎ রাত্রিকালীন নাযিল হওয়া।

৭. গ্রীষ্মকালে নাযিল হওয়া।

৮. শীতকালে নাযিল হওয়া।

৯. শয্যাবস্থায় নাযিল হওয়া।

১০. আসবাবে নুযূল অর্থাৎ কোন ঘটনার পূর্বে বা পরে নািল হওয়া।

১১ সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াতসমূহ ।

১২. সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত, সূরা ।

 

কুরআনের অবতরণ

আল-কুরআন মহান আল্লাহর বাণী। এটা মানব রচিত কোন গ্রন্থের মত গ্রন্থ নয়। মহান আল্লাহ বিশ্বমানবতার হিদায়াতের জন্য তার মনোনীত সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর নিকট বিভিন্ন প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে অবতীর্ণ অহীর সমষ্টি। যা নবী জীবনের সুদীর্ঘ ২৩ বছর কালব্যাপী নাযিল হয়েছিল। এটি “লাওহে মাহফুযে” সুরক্ষিত গ্রন্থ। কুরআন মাজীদ “লাওহে মাহফুয” থেকে মহানবীর (সাঃ) কাছে দু’পর্বে অবতীর্ণ হয়। প্রথমত, লাওহে মাহফুয হতে বাইতুল ইয্যাতে তথা “বাইতুল মামুরে” দ্বিতীয়, বাইতুল ইয্যাত হতে মহানবীর (সাঃ) প্রতি।

 

ওহীর লিখকবৃন্দ

হযরত যায়িদ ইব্‌ন সাবিত রো) ছাড়াও খারা ওহী লিপিবদ্ধ করে রাখার দায়িত্ব পালন করতেন, তাদের মধ্যে প্রথম চার খলীফা, হযরত উবাই ইব্‌ন কাব, হযরত আয্‌ যুবাইর ইবনুল আওয়াম, হযরত মু’আবিয়া, হযরত আববাস ইব্‌ন সা’ঈদ, আবদুল্লাহ ইবৃন রাওয়াহা, ইব্‌ন মাসউদ, খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ, মুগীরা ইব্‌ন শুবা ও হানযালা রাযিয়াল্লাহু আনহুম-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে ।

 

আল-কুরআন মুদ্রণ

মুদ্রণযন্ত্রের প্রচলন হওয়ার আগ পর্যন্ত আল-কুরআন হাতে লেখা হতো। যুগে যুগেই এমন একদল নিবেদিতপ্রাণ লোক ছিলেন, যাদের একমাত্র সাধনা ছিল আল-কুরআন লিপিবদ্ধ করা । আল-কুরআনের প্রতিটি অক্ষর সুন্দরভাবে লিপিবদ্ধ করার লক্ষ্যে এ সাধক লিপিকারগণ যে অনন্য সাধনার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, ইতিহাসে এর অন্য কোন নযীর নেই। কুরআনের সে লিপি সৌন্দর্যের ইতিহাস এতই দীর্ঘ যে, এজন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ প্রণয়ন করা যেতে পারে। মুদ্রণযন্ত্র আবিষ্কারের পর সর্বপ্রথম জার্মানীর হামবুর্গ শহরে হিজরী ১১১৩ সনে আল-কুরআন মুদ্রিত হয়। মুদ্রিত সেই আল-কুরআনের একটি কপি মিসরের দারুল কুতুবে এখনো সংরক্ষিত রয়েছে। কিন্তু মুসলিম-জাহানে সে সমস্ত মুদ্রিত কপি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি।

 

মুসলিমদের মধ্যে সর্বপ্রথম মাওলায়ে উসমান কর্তৃক রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে ১৭৮৭ খৃষ্টাব্দে আল-কুরআন মুদ্রিত হয়। প্রায় একই সময়ে কাযান শহর থেকেও একটি কপি মুদ্রিত হয়। ১৮২৮ খৃষ্টাব্দে ইরানের তেহরানে লিথু মুদ্রণযন্ত্রে আল-কুরআনের আর একটি কপি মুদ্রিত হয়। এরপর থেকে দুনিয়ার অন্যান্য এলাকাতেও ব্যাপকভাবে ছাপাখানার মাধ্যমে আল-কুরআনের কপি যুদ্রণের রেওয়াজ প্রচলিত হয় ।

 

আমসালুল কুরআন

দৃষ্টান্ত বর্ণনা এক প্রকার ভাষা অলঙ্কার। প্রত্যেক ভাষায় দৃষ্টান্তের ব্যবহার দেখা যায়। আল্লাহ তা‘আলাও কুরআনে অসংখ্য দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। এগুলোকে আমসালুল কুরআন বলা হয়। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৪০ জায়গায় এ ধরনের উপমা ব্যবহৃত হয়েছে।

 

আকসামুল কুরআন

কসম শব্দের বহুবচন হলো আকসাম। যার অর্থ শপথ করা, হলফ করা, দৃঢ়তার সাথে কিছু ব্যক্ত করা। আল কুরআনে মহান আল্লাহ্‌ বিভিন্ন বিষয়ে কসম করে বক্তব্য দিয়েছেন। কুরআনে বর্ণিত শপথগুলোকেই আকসামুল কুরআন বলে।

 

ইজাযুল কুরআন

পারিভাষিক অর্থে, ই’জায হল এমন এক গুণ যা অনুরূপ কোনো কিছু নিয়ে আসার ক্ষেত্রে সাধারণ ক্ষমতাকে অতিক্রম করে যায়। কুরআন মুসলমানদের মূল ধর্মপ্রন্থ। এটি আল্লাহ্‌র বাণী এবং এর ই’জায গুণ রয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা বনী ইসরাইলের ৮৮ নম্বর আয়াতে বলেন- “বলে দাও, এই কুরআনের মত বাণী তৈরি করে আনার জন্য যদি সমস্ত মানুষ ও জিন একত্র হয়ে যায়, তবুও তারা এ রকম কিছু আনতে পারবে না, তাতে তারা একে অন্যের যতই সাহায্য করুক।” এই আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা সমগ্র মানব ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন এই কোরআনের মতো একটি আয়াত রচনা করার। সাধারণ অর্থে পৃথিবীর কোন মানুষের রচিত কিতাব বা বই এর বিষয়ে সেই বইয়ের লেখক এরকম চ্যালেঞ্জ দিতে পারেনি। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা এই কোরআনের বিষয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। মূলত এটাই হলো ইজাযুল কোরআন বা কুরআনের অলৌকিকতা।

 

কাসাসুল কুরআন 

কাসাসুল কুরআন শব্দের অর্থ কুরআনের গল্প। কুরআনে বর্ণিত ঘটনাবলির অধিকাংশই প্রাচীনকালের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও তাদের প্রতি প্রেরিত নবি-রসূল সম্পর্কিত। আল্লাহ তা’আলা এইসব ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই সকল যুগের অধিবাসীদের জন্য শিক্ষা রেখেছেন। বিশুদ্ধ তাওহীদ, প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য, যুলুম-যালিমের পরিচয় এবং ধরণ, দাওয়াতি নীতি, দ্বীনের প্রায় সকল বুনিয়াদি শিক্ষা আল্লাহ তা’আলা এসব উদাহরণের মাধ্যমে দিয়েছেন। কুরআনে উল্লেখিত গল্পগুলোকেই কাসাসুল কুরআন বলা হয়।

 

তাদাব্বুরে কুরআন

তাদাব্বুর (تَدَبُّر) অর্থ গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করা। অনুধ্যান করা। সাধারণত কুরআন কারীমের আয়াত নিয়ে চিন্তাভাবনাকে তাদাব্বুর বলে। কুরআনের তাদাব্বুর সমস্ত শরীয়তের যাবতীয় ইলমের চাবিকাঠি। তাদাব্বুরের মাধ্যমে কুরআন থেকে কল্যাণকর দিক-নির্দেশনা লাভ করা যায়। ঈমান বৃদ্ধি পায়।