কুরাআন অধ্যয়ন প্রতিযোগিতা ২০২৩
প্রস্তুতি সহায়ক তাফসীর নোট পর্ব-২
ইলমুত তাজওঈদ
আভিধানিক অর্থ : তাহসিন التحسين । অর্থাৎ কোনো কিছু শুদ্ধ ও সুন্দর করা।
পারিভাষিক অর্থ: কুরআনের প্রতিটি হারফকে তার যথাযথ হক আদায় করে মাখরাজ ও সিফাত ঠিক রেখে সঠিক ও শুদ্ধ নিয়মে উচ্চারণ করাকে তাজওইদ বলে।
হুকুম: সামর্থ্যানুযায়ী তাজওইদসহ তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম ও মুসলিমার জন্য ফরজে আইন।
উদ্দেশ্য : পবিত্র কুরআনুল কারিম সঠিক ও শুদ্ধ করে তিলাওয়াত করতে শেখা।
কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন।
১. তারতীল ২. হদর এবং ৩. তাদবীর।
১. তারতীল: মদ ও গুন্নাহ পরিপূর্ণভাবে আদায় করে, ধীর- স্থীরে কোরআন মজীদ পড়াকে তারতীল বলে।
২. হদর: তাজবীদের নিয়ম কানুন রক্ষা করে, একটু দ্রুত কোরআন মজীদ পড়াকে হদর বলে।
৩. তাদবীর: তারতীল এবং হদরের মাঝামাঝি ধরনের পড়াকে তাদবীর বলে।
লাহন
তাজবীদের বিপরীত কোরআন মজীদ পড়াকে লাহন বলে। উহা দুই প্রকার:
১) লাহনে জালী (বড় ভুল)
২) লাহনে খাফী (ছোট ভুল)
১) লাহনে جلي জালী বড় ভুল হলো– প্রকাশ্য ভুল- যা সাধারণ মানুষ এবং কুরআনের আলিম সকলেই বুঝতে পারেন। যথা- :
১) এক হরফের জায়গায় অন্য হরফ পড়া।
২) কোন হরফকে বাড়িয়ে দেয়া।
৩) কোন হরফকে কমিয়ে দেয়া।
৪) যের, যবর, পেশ এবং জযম থেকে একটিকে অপরটির জায়গায় পড়া। এ জাতীয় মারাত্মক ভুলসমূহকে লাহনে জালী বলে। লাহনে জালী পড়া হারাম। অনেক জায়গায় লাহনে জালীর কারণে অর্থ বিকৃত হয়ে নামাজ নষ্ট হয়ে যায়।
২) লাহনে خفي খফী ছোট ভুল হলো– তিলাওয়াতের সৌন্দযের্র বিষয়ে ভুল করা বা উচ্চারণ করার নির্দিষ্ট নিয়ম-কানুনের বিপরীত পড়াকে লাহনে খাফী বলে। যথা- ر কে তাকবীর করে পড়া এবং হরকতের স্থানে থামা ইত্যাদি। এ রকম পড়া মাকরুহ; তাই এ থেকেও বেচে থাকা উচিৎ।
■ ওয়াজিব গুন্নাহঃ ﻦ এবং ﻢ বর্ণের উপর তাশদীদ ( ّ ) থাকলে বাংলা চন্দ্র বিন্দুরমত গুন্নাহ করে পড়াকে ওয়াজিব গুন্নাহ বলে। ওয়াজিব গুন্নাহ না করলে কবীরা গুনাহ হয়। যেমনঃ ﺇﻦ ﺍﻠﻠﻪ
নুন সাকিন ও তানবীন
■ নুন সাকিনঃ যে নুনের উপর যযম থাকে তাকে নুন সাকিন বলে।
■ তানবীনঃ দুই যবর, দুই যের, দুই পেশ কে তানবীন বলে।
■ নুন সাকিন ও তানবীন পড়ার নিয়ম চারটিঃ
১. ইযহারঃ নুন সাকিন ও তানবীনের পরে ইজহারের ছয় হরফের ( ﺀ ﮦ ﻉ ﺡ ﻍ ﺥ ) কোন একটি আসলে ঐ নুন সাকিন ও তানবীনকে গুন্নাহ ব্যতিত স্পষ্ট করে পড়তে হয়। যেমনঃ ﻤﻦ ﺃﺠﻞ
২. ইক্বলাবঃ নুন সাকিন ও তানবীনের পরে ইক্বলাবের হরফ ( ﺐ ) আসলে তখন ঐ নুন সাকিন ও তানবীনকে ( ) ﻢ দ্বারা পরিবর্তণ করে পড়তে হয়। যেমনঃ ﻤﻦ ﺒﻌﺪ
৩. ইদগামঃ নুন সাকিন ও তানবীনকে ইদগামের বর্ণের সহিত মিলিয়ে পড়তে হয়।
■ ইদগাম দুই প্রকার। যথাঃ
১. ইদগামে বা গুন্নাহঃ নুন সাকিন ও তানবীনের পরে ইদগামে বা গুন্নাহর চার হরফের ( ﻢ ﻮ ﻦ ﻯ ) কোন একটি আসলে গুন্নাহ সহকারে মিলিয়ে পড়তে হয়। যেমনঃ ﻣﻥ ﻳﺷﺎﺀ
২. ইদগামে বেলা গুন্নাহঃ ইদগামে বেলা গুন্নাহর দুই হরফের ( ﺮ ﻞ ) যে কোন একটি আসলে গুন্নাহ ব্যতিত মিলিয়ে পড়তে হয়। যেমনঃ ﻣﻥ ﺭﺑﻬﻡ
৪. ইখফাঃ নুন সাকিন ও তানবীনের পরে ইখফার ১৫ হরফের যে কোন একটি আসলে উহাকে গুন্নাহ করে পড়তে হয়। ইখফার হরফঃ ﺖ ﺚ ﺝ ﺪ ﺬ ﺰ ﺲ ﺶ ﺺ ﺾ ﻂ ﻈ ﻒ ﻖ ﻚ
মীম সাকিন
■ মীম সাকিনঃ যে মীমের ( ﻢ ) উপর সাকিন/যযম ( ّ ) থাকে তাকে মীম সাকিন বলে।
ইহা পড়ার নিয়ম তিনটিঃ
১. ইখফাঃ মীম সাকিনের পর যদি ﺐ হরফ থাকে তখন উহাকে গুন্নাহ করে পড়তে হয়।
২. ইদগামঃ মীম সাকিনের পর যদি মীম থাকে তবে উভয় মীমকে গুন্নাহ সহ পড়তে হয়।
৩. ইযহারঃ ﺐ ও ﻢ ব্যতীত বাকী ২৭ বর্ণের যে কোন একটি বর্ণ যদি মীম সাকিনের পর থাকে তবে তাকে গুন্নাহ ব্যতীত স্পষ্ট করে পড়তে হয়।
ওয়াকফর চিহ্নসমূহেহের বিবরণ
[ ط] – এই চিহ্ন কে ‘ওয়াকফে মতলাক্ব’ বলে । এই চিহ্নিত স্থানের ওয়াকফ করা উত্তম, ওয়াক্ফ নাকরা ভাল নহে। য়াকফ করা না করা উভয় জায়েজ, তবে ওয়াক্ফ করা ভাল।
[ ز ] এই চিহ্ন কে ‘ওয়াক্ফে মুজাওয়ায’ বলে। এইরূপ স্থানে ওয়াকফ করা না করা উভয় জায়েজ, তবে, না করা ভাল।
[ص ]- এই চিহ্ন কে ‘ওয়াকফে মুরাখ্খাস’ বলে। এই রুপ স্থানে ওয়াক্ফ না করিয়া পরের শব্দের সহিত মিলাইয়া পড়া ভাল। কিন্তু নিঃশ্বাস শেষ হইয়া গেলে ওয়াক্ফ করা যায়।
[ قف ]- এই চিহ্নকে ‘ওয়াক্ফে আমর’ বলে। ইহা ওয়াক্ফ করার জন্য নির্দেশ করে।
[ﻣ]-এই চিহ্ন কে ‘ ওয়াকফে লাযেম’ বলে। এই ﻣ চিহ্নিত স্থানে ওয়াকফ না করিলে বিপরীত অর্থ হইয়া যাইতে পারে। তাই ওয়াকফ করা অবশ্যই দরকার।
[لا] – এই চিহ্নে ওয়াকফ করা নিষেধ।
[ج ] – এই চিহ্নে ওয়াকফ করা জায়েজ। ইচ্ছা হলে ওয়াকফ করবে না করলেও সমস্যা নেই।
[صلے] – এই চিহ্নের নাম ওয়াকফ সিলা। এই চিহ্নে ওয়াকফ করার পর আবার তিলাওয়াত শুরু করলে আগের বিষয়বস্তু থেকে শুরু করতে হবে।
[قلے ]- এই চিহ্নের নাম ওয়াকফ ক্বিলা। ওয়াকফ করার পর আবার তিলাওয়াত শুরু করতে চাইলে আগের বিষয়বস্তু থেকে শুরু করবে, না হয় যেখানে ওয়াকফ করা হয়েছে তার পর থেকে শুরু করবে।
[س ]- এই চিহ্ন দুই জায়গায় থাকে। একটি থাকে আয়াতের ওপর দুই শব্দের মাঝখানে। এর অর্থ সাকতাহ। অর্থাৎ এমন চিহ্নে নিঃশ্বাস না ফেলেই চুপ থেকে আবার তিলাওয়াত শুরু করতে হবে।
[۩] সিজদাওয়ালা আয়াতে এই চিহ্ন থাকে।
[ ۛ – ۛ] এই চিহ্নগুলোর মাঝে যেকোনো একটায় ওয়াকফ করতে হবে। দুইটাতে করা যাবে না।